ময়মনসিংহের ফুলপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পথ যাত্রী সাইফুল ইসলাম ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের বেশ কিছু উচ্ছৃংখল সন্ত্রাসী দ্বারা গুলি বিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় ৩ টি মামলা হয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামা আসামী দিয়ে মামলা দায়েয়ের পর নিহতের বাবা ও বিএনপি’র নেতা আদালতে আরো দু’টি পৃথক মামলা দায়ের করেন। পুলিশের দায়ের করা মামলা ও নিহতের বাবার দায়ের করা অভিযোগ একই ধরনের হলেও বিএনপির নেতার অভিযোগে ভিন্নতা রয়েছে।
নিহতের বাবা তৈয়ব আলী জানান, তার দু’পুত্র সাইফুল ও শহিদুল ধান বিক্রীর উদ্দেশ্যে বাড়ী হইতে ধান নিয়া আমুয়াকান্দা বাজারের উদ্দেশ্যে বায়। গত ২০ জুলাই দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি মিছিল আমুয়াকান্দা বাজার অতিক্রম করার সময় উক্ত মিছিলকে প্রতিহত করার জন্য তৎস্থলে হাসিনা সরকারের নির্দেশে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের বেশ কিছু উচ্ছৃংখল সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন পিস্তল, রামদা, লাঠি ইত্যাদি অস্ত্রসস্ত্র নিয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের উপর আক্রমন করে। তখন পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করিলে ধোয়ায় চারদিকে ধোয়াচ্ছন্ন হইয়া যায়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের মধ্য হইতে কতক ছাত্র পানি পানি বলিয়া চিৎকার করিলে আমার পুত্র সাইফুল ইসলাম (৩৭) দোকান হইতে বাহির হয়ে একটি পানির বোতল নিয়া ছাত্রদের চোখে পানি দিয়া ও পান করাইয়া দাঁড়ানো মাত্রই ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ মিছিল হইতে একখানা গুলি আসিয়া আমার পুত্র সাইফুল ইসলামের কপালে লেগে মাথার পিছন দিয়া বের হয়ে যায়। সাইফুল তৎক্ষনাত মাটিতে পড়িয়া যায়। সাইফুলের ভাই শহিদুল মিয়া দৌড় দিয়া আসিয়া তাহাকে কোলে তুলিয়া নেয়। তখন সাইফুলের নিথর অবস্থায় ছিল। এ সময়ে ছাত্রলীগ ও তাওয়ামী লীগ আমার পুত্র সাইফুল ইসলামের নিথর দেহ ছিনাইয়া নেওয়ার চেষ্টা করিলে বৈষম্যনিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্রগন, মানিত সাক্ষীগন ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় সন্ত্রাসী বাহিনী আর নিতে পারে নাই। সাইফুল ইসলামের তিন সন্তান রয়েছে।

নিহতের বাবা তৈয়ব আলী জানান, পুলিশ দ্বায়িত্বশীল হয়ে ফুলপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আমার অভিযোগের সাথে ঘটনার মিল থাকলেও পুলিশ কাউকে আসামী করতে বা সনাক্ত করতে নাপারায় আমি আসামীদের নাম উল্লেখ করে আদালতে একটি মামলা করি।
আমরা জানতে পারি, ইতিপূর্বে জনৈক শাহা মোহাম্মদ আলী নামীয় এক ব্যক্তি বিজ্ঞ আদালতে ৬৫২/২৪ নং দরখাস্ত মামলা দায়ের করে, উক্ত ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না। বর্তমানে আমি মানসিক ভাবে কিছুটা শান্ত হইয়া বিজ্ঞ আদালতে অত্র মোকদ্দমা দায়ের করিলাম।