ময়মনসিংহ-শেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কসহ চারদিকে কোটাবিরোধী আন্দোলন দমনে ও আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রন রাখার ২০ জুলাই দায়িত্বে থাকা পুলিশ টিমের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ফুলপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন। এ সময় মো. সাইফুল ইসলাম (৩৫) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাবার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্ররের বাইরে চলে যায়। বাজার করতে আসা নিরিহ সাইফুলের মৃত্যুতে আন্দোরকারীরা পুলিশ পরিদর্শকের ফাসিঁর দাবীতে শ্লোগান দেন। তৎ সময়ে জেলায় কর্মরত থাকা সকল পুলিশ অফিসারের বদলী হলে তিনি এ জেলায় কর্মরত রয়েছেন। পুলিশের দায়ের করা মামলাটি এখন ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি) তদন্ত করছেন।
সুত্র জানায়, শেরপুরে বিজিবি সদস্য রেখে ফুলপুর থানাধীন ময়মনসিংহ-শেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে আমুয়াকান্দা ব্রিজ অতিক্রম করাকালে আন্দোনকারীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে বিজিবির গাড়িকে গতিরোধ করা বা থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। তাদের ছোড়া ইট-পাটকেলের আঘাতে বিজিবি'র গাড়ীর ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং বিজিবি সদস্য হাবিলদার দেবাশীষ রায় ও ল্যান্স নায়েক নূর হোসেন আহত হয়। ফুলপুর থানায় আসার পর বিজিবি সদস্যদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। এ সময় ১ টা ৫০ মিনিটে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত), মাহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্ব অফিসার ও ফোর্সগণ ঘটনাস্থলে হাজির হন। ১২.৫০ ঘটিকা হইতে ১৩.০৫ ঘটিকার মধ্যে যে কোন সময় মোঃ সাইফুল ইসলাম (৩৫)'কে গুলি করে হত্যা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ সময় ডিউটিতে নিয়োজিত অফিসার ও ফোর্স, সাউন্ড গ্রেনেড ১০টি, টিয়ারশেল ৪১টি, শটগানের সিসা কার্তুজ ১১২টি, রাবার কার্তুজ ৮৭টি, ৭.৬২ চায়না রাইফেলের গুলি ১৬টি ব্যবহার করেন। আইন প্রয়োগকারি সংস্থার গুলিবিদ্ধ হয়ে মো. সাইফুল ইসলাম (৩৫) মারা যান। তার বাড়ি চক ঢাকিরকান্দা, রহিমগঞ্জ, থানা-ফুলপুর।
উক্ত বিষয়ে ফুলপুর থানার মামলা নং-১৮ তারিখ-২২/০৭/২০২৪খ্রি, ধারা-৩০২/২০১/৩৩২/৪২৭/৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়। মামলাটি পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন তদন্তের দায়িত্ব পান। আন্দোলন পরবর্তী সময়ে স্থানীয়রা পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ারকে ঘাতক বলে সমালোচিত হলে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা সংস্থা ডিবিতে।
উল্লেখ্য, কোটাবিরোধী আন্দোলকারীদের মতে পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে সাইফুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সে বর্তমানে ময়মনসিংহ ৩ নং পুলিশ ফাড়িতে কর্মরত রয়েছে।