ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগী ও স্বজনদের পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে। এ সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কাজ চালাতে হয় মোমবাতির আলোয়, যা চিকিৎসাসেবার মান ও রোগী নিরাপত্তাকে চরমভাবে হুমকির মুখে ফেলছে।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত ১০টা ৩০ মিনিটে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা ফরিদ মিয়া তার মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, "হাসপাতালে এসে দেখি পুরোপুরি অন্ধকার। কেউ একজন মোমবাতি এনে ডাক্তারকে দেয়। সেই আলোতেই আমার ছেলেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এটা কি ধরনের চিকিৎসা?"
হাসপাতালের সহকারী মেডিকেল অফিসার ডা. সাগর চন্দ্র দাস বলেন, “বিদ্যুৎ চলে গেলে আমরা পুরোপুরি অন্ধকারে পড়ে যাই। হাসপাতালের জেনারেটর থাকলেও সেটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে। মোমবাতির আলোতে চিকিৎসা দেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর। অনেক সময় চোখে-মুখে আলো না পড়ায় রোগ নির্ণয় করাই কঠিন হয়ে পড়ে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনিম মুনমুনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। একইভাবে রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সুমাইয়া হোসেন লিয়াকেও একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনিও ফোন ধরেননি।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান বলেন, “উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। দ্রুত সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, “উপজেলা পর্যায়ের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও ঈশ্বরগঞ্জ হাসপাতালে রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই—এটা অত্যন্ত হতাশাজনক। বিদ্যুৎ ও জেনারেটর সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।