ময়মনসিংহ শহরে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিষয়টি এখন আর শুধু ফেসবুকের পোস্ট বা আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—এটি নগরবাসীর বাস্তব ভয় ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্ধ্যার পর অনেক শিক্ষার্থী রাস্তায় বের হতে সাহস পায় না, অভিভাবকেরা দুশ্চিন্তায় থাকেন।কিশোর গ্যাংয়ের অধিকাংশই মাদক সেবনে যুক্ত হয়ে গেছে।কেউ কেউ জড়িয়েছে মাদক ব্যবসার সাথেও, এমন খবর হরহামেশা পাওয়া যাচ্ছে। প্রশাসনের আশ্বাস মিললেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন না হওয়ায় জনমনে হতাশা বাড়ছে।
শাওনের মর্মান্তিক মৃত্যু গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ময়মনসিংহ নগরের জয়নুল আবেদিন উদ্যান-এর বিপরীত পাশে ব্রহ্মপুত্র নদ তীরে ঘুরতে যান আনন্দ মোহন কলেজ-এর রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নূরুল্লাহ শাওন ও তার বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান রিয়াদ। এ সময় সাতজনের একটি কিশোর দল তাদের ঘিরে ধরে টাকা দাবি করে। শাওন প্রতিবাদ করলে তারা দুজনের ওপর হামলা চালায়। প্রাণ বাঁচাতে দুই বন্ধু দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। রিয়াদ নদে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে পার হতে সক্ষম হলেও শাওন সাঁতার জানতেন না। নদের গভীর অংশে পড়ে তিনি ডুবে যান।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা না করে পালিয়ে যায়। পরদিন রাতে নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শাওনের মা কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ছয়জন কিশোরকে গ্রেপ্তার করে। তাদের বয়স ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। তারা বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী। পরে তাদের কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ দ্রুত আসামি গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পুলিশের আশ্বাসের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। বাড়ছে গ্যাং সহিংসতা শাওনের ঘটনা একা নয়। এর আগেও গ্যাংয়ে যোগ না দেওয়ায় এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদক সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে কিশোরদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়া ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের অভাব এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে। সমাধান কোথায়?
ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের ছাত্র । তারাবি নামাজ শেষে বাসায় ফেরার সময় কতিপয় দুষ্কৃতকারী জবরদস্তি করে তাকে রিকশায় উঠিয়ে নিয়ে যায় ও বেধড়ক মারধর করে রাস্তায় ফেলে রাখে।
এই ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।শহরে কিশোর গ্যাং এর উৎপাত বেড়েই চলেছে। ক্রমান্বয়ে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।নিরীহ মানুষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে মাদককারবারীদের আস্ফালন বেড়েই চলছে। জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করে শহরের ব্যস্ততম বানিজ্যিক এলাকায় ফুটপাত বানিজ্য বন্ধ হচ্ছে না।
প্রশাসনের কাছে জনতার দাবী ফুটপাত বানিজ্য বন্ধ করে অপরাধীদের পাকড়াও করতে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করুণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর গ্যাং সমস্যা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি সামাজিক ও পারিবারিক সংকটেরও প্রতিফলন। পরিবারে নজরদারি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা, সামাজিক উদ্যোগ এবং কঠোর আইন প্রয়োগ—সবকিছুর সমন্বিত প্রয়াস ছাড়া এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ কঠিন।