
ঈদ যত ঘনিয়ে আসে, ময়মনসিংহ শহরের রাস্তাগুলো যেন একটু একটু করে ভারী হয়ে ওঠে। বাসস্ট্যান্ডে ভিড়, মহাসড়কে দীর্ঘ সারি, মার্কেটের সামনে হর্নের শব্দ। সেই চেনা দৃশ্য যেন আগেভাগেই বুঝে ফেলেছিলেন জেলা প্রশাসক।
আজ সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে একে একে জড়ো হন পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক বিভাগ ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। বাইরে রোদ, ভেতরে গম্ভীর আলোচনা। টেবিলের ওপর ছড়িয়ে থাকা কাগজ, মানচিত্র আর সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোর তালিকা।
জেলা প্রশাসক কথা শুরু করেন খুব সরলভাবে, “ঈদের আনন্দ যেন রাস্তায় আটকে না যায়।” তারপর একে একে উঠে আসে শহরের প্রবেশপথ, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, বড় মার্কেট আর মহাসড়কের কথা। কোথায় চাপ বাড়বে, কোথায় অতিরিক্ত পুলিশ দরকার, কোথায় অবৈধ পার্কিং সরাতে হবে—সবকিছু নিয়ে খুঁটিনাটি আলোচনা হয়।
সিদ্ধান্ত হয়, শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বাড়ানো হবে ট্রাফিক তদারকি। ফুটপাত দখল ও অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে চলবে অভিযান। বাস ও অন্যান্য পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে থাকবে নজরদারি। যাত্রীদের নিরাপত্তায় সাদা পোশাকে সদস্যও মোতায়েন করা হবে।
সভা শেষে বেরিয়ে আসা এক কর্মকর্তা বলেন, “এবার প্রস্তুতি আগেভাগেই নেওয়া হয়েছে। চেষ্টা থাকবে মানুষ যেন স্বস্তিতে বাড়ি যেতে পারে।”
ঈদ মানেই ঘরে ফেরা। আর সেই ফেরা যেন হয় নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন—এই লক্ষ্যেই প্রশাসনের এই প্রস্তুতি। এখন দেখার বিষয়, পরিকল্পনাগুলো মাঠে কতটা কার্যকর হয়। শহরবাসীর প্রত্যাশা একটাই—ঈদের হাসি যেন রাস্তায় আটকে না থাকে।