
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৪নং পরানগঞ্জ ইউনিয়নের বাঘাডুবা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বয়স্ক নারীসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঘাডুবা গ্রামের ফজলুল হক গং ও হারুন অর রশিদ গংদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ফজলুল হক গং এর লোকজন তাদের দাবি করা জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে হারুন অর রশিদ ও রফিকুল ইসলাম গোষ্ঠীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ সময় মো. ফজলুল হক, ফারুক মিয়া মোঃ সজিব মোঃ বিল্লাল হোসেন মোছা. আনোয়ারা বেগমসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত ফারুক মিয়া অভিযোগ করেন, তার পিতা ফজলুল হক দীর্ঘদিন আগে ক্রয়কৃত জমিতে চাষাবাদ করছিলেন। এ সময় হারুন অর রশিদ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করেন। তিনি, তার ভাই ও মা প্রতিবাদ করলে হারুন অর রশিদ ও রফিকুল ইসলাম গংরা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
স্থানীয় মাতব্বর মোন্নাছ আলী বলেন, প্রায় ৭০ বছর আগে ফজলুল হক ওই জমি ক্রয় করেন। সম্প্রতি হারুন অর রশিদ হঠাৎ করে জমিটির মালিকানা দাবি করলে বিরোধের সূত্রপাত হয় এবং শেষ পর্যন্ত মারামারির ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে স্থানীয় মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, হারুন অর রশিদ ও রফিকুল গোয়াল এর গোষ্ঠী এলাকায় প্রায়ই বিভিন্ন মামলার মাধ্যমে মানুষকে হয়রানি করে। এলাকাবাসীর দাবি, তারা মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে থাকে।
এলাকার আরেক মাতব্বর আব্দুল হাই সরকার বলেন ফজলুল হকের ছেলে ইমান আলী ৭০ বছরধরে ক্রয়কৃত মালিক হঠাৎ করে বেদখল করে হারান অর রশিদ গংরা পরে পূর্ণ উদ্ধারের মামলা করে দখলে যান ইমান আলী।
এ ঘটনায় ফারুক মিয়া বাদী হয়ে ময়মনসিংহ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (১নং আমলী আদালত)-এ একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নম্বর ৩৮৯, তারিখ ৩ মার্চ ২০২৬।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান অভিযুক্ত হারুন অর রশিদ বলেন, উক্ত জমি গত সাত মাস ধরে তার দখলে ছিল। পরে ফজলুল হক আবার জমিটি দখলে নেওয়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয় এবং সেখান থেকেই মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে তার পরিবারের চারজন সদস্যও আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
হারুন অর রশিদ এর ভাই রফিকুল গোয়াল বলেন আমরা দুই পক্ষের রোগী নিয়ে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে বাড়ি ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
এ ঘটনায় তারাও থানায় মামলা করেছেন বলে জানান, তবে এখনো পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি।
স্থানীয়রা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।