ময়মনসিংহের ভালুকায় এসকিউ কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রকাশ্যে লাঠিসোঁঠা ও দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও ফ্যাক্টরির নিরাপত্তা জোরদার করেন কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি উপজেলার জামির দিয়া এলাকার।
শনিবার (২৭ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় পুরো এলাকা জুড়ে থমথমে অবস্থা। শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখেমুখে চরম আতঙ্ক ও ভয়ের ছাপ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এসকিউ ইন্ডাস্ট্রিজ ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন যাবত কারখানার আশপাশে মহরা দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি ও বৃহস্পতিবার এলাকায় প্রকাশ্যে লাঠিসোঁঠা ও অস্ত্রের মহরা দিয়েছে এমপি বাচ্চুর সমর্থকরা। এই সময় শ্রমিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভয়ভীতি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, এর আগেও ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্রকরে একাধিকবার এই এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহরা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারখানার নিরাপত্তাকর্মী জানান, শনিবার কিছু যুবক কারখানা এলাকায় গিয়ে এমপি বাচ্চুর নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি অব্যাহত রেখেছে। স্থানীয়রা বলেন, এখানে পরিস্তিতি এতটাই উত্তেজনাকর যে, যে কোন মুহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ সংঘঠিত হতে পারে।
বিএনপি নেতা মোর্শেদ আলম জানান, তার মালিকানাধিন প্রতিষ্ঠান এইচ. আর. কে.এম এন্টারপ্রাইজ প্রায় ২৩ বছর ধরে এসকিউ গ্রুপে বিশ^স্ততার সহিত জমি ক্রয়-বিক্রয়, কনষ্ট্রাকশন, সাপ্লাই ও ঝুট ব্যবসা করে আসছেন। তার বৈধ ওয়ার্ক অর্ডার থাকার পরেও এমপি বাচ্চুর নির্দেশে ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপের কারণে তিনি ফ্যাক্টরী থেকে মাল (ঝুট) বেরকরতে পারেননি। মোর্শেদ আলম বলেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই এমপি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর নির্দেশে এমপির লোকজন তার বৈধ ব্যবসা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে, তার বৈধ ওয়ার্ক অর্ডার থাকার পরেও তিনি ফ্যাক্টরী থেকে মাল (ঝুট) বেরকরতে গেলে দফায় দফায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। এর আগেও ফ্যাক্টরি থেকে মোর্শেদ আলম মাল (ঝুট) বের করতে গেলে এমপি বাচ্চুর লোকজন বাধা দেয়।
মোর্শেদ আলম অভিযোগ করে বলেন, আমি বৈধভাবে ঝুট ব্যবসা করে আসছি। কিন্তু এমপি বাচ্চু জোরপূর্বক আমার ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। দুটি সাজানো ও মিথ্যা মামলায় আমাকে আসামী করা হয়েছে, আমার কর্মী সমর্থকদের হয়রানী করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, কারখানা এলাকার পরিবেশ খুবই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। তারা বলেন, ব্যবসা নিয়ে বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ঝুট ব্যবসা নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এমপি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু গুমাধ্যমকে বলেন, আমরা খবর পেয়েছি ফ্যাসিস্টরা একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করছে ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃতরা ফ্যাসিস্টদের সহযোগীতা করছে। ফ্যাসিস্টরা যাতে কোন ধরণের মিছিল, মিটিং করতে না পারে সেজন্যে হবিরবাড়ি ইউনিয়নের বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন তাদের বিরুদ্ধে মিছিল করে। এখানে ফ্যাক্টরী সংশ্লিষ্ট কোন বিষয় আমার জানা নাই। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই বিরোধ সমাধান না হলে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।