
ময়মনসিংহ নগরীর একটি ভাড়া বাসা থেকে রাজিব আহম্মেদ ওরফে রুবেল (৪০) নামে এক যুবকের গলাকা টা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (৫ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে নগরীর আকুয়া ৩৬ বাড়ি কলোনি এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মো. রনি ও স্বজল নামে দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নিহত রাজিব আহম্মেদ ওরফে রুবেল নগরীর আর কে মিশন রোড এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে। তার মায়ের নাম মৃত খাদিজা বেগম।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে রুবেল আকুয়া ৩৬ বাড়ি কলোনির বাসিন্দা ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী পারুল আক্তারের বাসায় নতুন ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন। সেখানে তিনি কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে থাকতেন। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিজ কক্ষে তাকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
ঘটনার আগে বাসার সামনে থাকা রুবেলের চাচাতো ভাই মো. শুভর একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। পরে পুলিশ পারুল আক্তারের পাঁচ কক্ষবিশিষ্ট বাড়ির একটি কক্ষ থেকে রুবেলের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মদের বোতলও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত রুবেলের বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনার পর যে বাসায় রুবেল ভাড়া থাকতেন, সেই বাসার মালিক পারুল আক্তার এবং অন্যান্য ভাড়াটিয়াদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
নিহতের বোন রুনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে এখানে এসেছি। এই বাসার লোকজনই আমার ভাইকে মেরেছে।”
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, “আমরা একটি গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছি। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে মো. রনি ও স্বজল নামে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।”
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।