ময়মনসিংহের সংস্কৃতিকর্মীরা মৃতমুখী ব্রহ্মপুত্র নদের হাঁটুপানিতে নেমে 'মৃতের চিৎকার' লেখা ব্যানার নিয়ে নদ খনন কাজের অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন । ৫ই মে শুক্রবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর কাচারিঘাট এলাকায় এই প্রতিবাদ কর্মসূচির পালন করা হয়। ময়মনসিংহ নগর এবং বিভিন্ন উপজেলার তরুণ-তরুণীরা এই প্রতিবাদে যোগ দেন।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ব্রহ্মপুত্রের বুকে হাঁটুপানিতে সাজানো হয় প্রতীকী মঞ্চ। একটি টেবিলে রাখা হয় কিছু খাবার; আমরা যেই পানিকে জীবনের অপর নাম বলে জানি কিন্তু সেই পানিই ছিলো না। যেন পানির জন্য হাহাকার। টেবিলের পেছনে বিশাল ব্যানারের পাশে ছোট ছোট প্ল্যাকার্ড পুতে রাখা হয়েছিলো। তারা যেন নীরবে জানান দিচ্ছিল মৃতপ্রায় এ নদের আর্তনাদের কথা।
এই প্রতিবাদের আয়োজক শামীম আশরাফ বলেন, 'সমন্বিতভাবে মৃতের চিৎকার কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। হাজার কোটি টাকা বাজেট হওয়ার পরও, কাজ হওয়ার পরও নদে হাঁটু পানি। সবার কাছে নদের আর্তনাদ পৌঁছে দিতেই আমাদের এই চিৎকার।'
কবি শামীম আশরাফ-এর আয়োজনে 'মৃতের চিৎকার' নামে ব্রহ্মপুত্র নদ রক্ষার এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও মানবাধিকার ও রাজনৈতিক কর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সংহতি জানিয়ে হাঁটু পানিতে নেমে প্রতিবাদ করেন। তারা মৃতপ্রায় ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
খননের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহসিন মিয়া বলেন, ‘২০১৯ সালে কাছারিঘাট এলাকায় খনন হয়। তবে বর্ষাকালে উজান থেকে পলি এসে নদে চর পড়ছে। সম্প্রতি আমি ওই এলাকাটি পরিদর্শন করেছি। দুই–এক দিনের মধ্যে আবারও ওই এলাকায় খননকাজ শুরু হবে।’