
আবদুস সোবহান একজন আদর্শ কৃষক।ধানের ওপর নির্ভর করে সংসার চলে।ধানের ফলনও ভাল হয়েছে।কিন্তু ধানের প্রকৃত দাম না পেয়ে সে হতাশ।হেমন্তের বাতাসে জমিতে যখন সে চোখ রাখে,তখন তার চোখে অনেক স্বপ্ন ভাসে।সেই স্বপ্ন ভাসতে ভাসতে জমিতে ধান পাকে।কাটে ধান।অনেক আশায় আবদুস সোবহান বুক বাঁধে।ধান নিয়ে যায় হাটে।কিন্তু ধানের প্রকৃত মূল্য না পেয়ে কষ্টেই তার জীবন কাটে।

অনুকূল আবহাওয়ায় এবার ধানের বাম্পার ফলন পেয়েছেন কৃষকরা।কিন্তু ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশ তারা।প্রকার ভেদে বাজারে ধান বিক্রি হচ্ছে ৭ থেকে ৮শ' টাকা মণ দরে।ধানের দাম কম হওয়ায় চরম হতাশ কৃষক পরিবার।ধান মাড়াইয়ের এ ভরা মৌসুমেও ক্ষোভ-হতাশা তাদের চোখে-মুখে।ধান কাটা ও মাড়াই সম্পন্ন হলেও সরকারি ভাবে এখনও ধান কেনা শুরু না হওয়ায় উৎপাদন খরচের থেকে কম দামে ধান বিক্রি করছেন কৃষকরা।ধানের ন্যায্য দাম পেতে সরকারের দিকে তাকিয়ে কৃষকরা।
উৎপাদন খরচের চেয়ে ধানের দাম কম হওয়ায় বেশিরভাগ কৃষক ধান চাষে অনীহা প্রকাশ করছে।শুধু পেটে দু’মুঠো ভাত দিতে হয় সেজন্য তারা বাধ্য হয়েই ধান উৎপাদন করছে বলে অনেক কৃষক অভিমত ব্যক্ত করেছে।তাছাড়া ‘দিন আনা দিন খাওয়া’ কৃষক এই ঘোরপ্যাঁচে বন্দি হয়ে বাধ্য হয়ে কম মূল্যে ধান বিক্রি করে দেয়।
সরকার ধান ক্রয় শুরু করে মোটামুটিভাবে ধান কর্তনের প্রায় শেষ পর্যায়ে।এটি করা হয়েছে সম্ভবত এ বিবেচনায় যে, আমাদের দেশের কৃষক অত্যন্ত অবস্থাসম্পন্ন।তারা ধান উৎপাদনের সব খরচ মেটাবেন তাদের সঞ্চিত গুপ্তধন থেকে। কৃষক ধান প্রক্রিয়াজাত করে তাদের নিজ নিজ গুদাম ঘরে রেখে দেবে!এরপর সরকারের যখন ধান ক্রয়ের সুমতি হবে তখন তারা সরকারের বাছাইকৃত লোকের মাধ্যমে বেশি দামে ধান বিক্রি করবে!
ধানের মূল্য নিয়ে সরকারের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করার সম্ভাব্য কারণটি হচ্ছে,সরকারের অতি আত্মতুষ্টি।সরকার মনে করে তাদের কারণেই আজ দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ।তারা বীজ,সার,সেচের ব্যবস্থা করেছে।বিএনপি জোট সরকারের সময়ের মতো কৃষককে তো সার ও ডিজেলের জন্য গুলি খেতে হচ্ছে না।এসবের ব্যবস্থা তো আওয়ামী লীগ সরকারই করেছে।তারপরও কৃষকের এত চাহিদা কেন?কৃষকের তো তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত।কী আজব চিন্তা ভাবনা!
যদিও ধানের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে অনেক জায়গায় হচ্ছে মানববন্ধন,পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে কৃষকের নানারূপ বঞ্চনার কথা।
কৃষকদের কাছে সরাসরি ধান কেনার সিদ্ধান্ত যদিও সরকারের একটা ভাল সিদ্ধান্ত কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্তে প্রকৃত কৃষকরা কতটুকু উপকৃত হচ্ছে তা সংশ্লিষ্ট সবার ভেবে দেখা উচিত।
কেননা এর সাথে সংশ্লিষ্টদের ক্রয়,দেখভালের দায়িত্ব, মনমানসিকতা কোনটাই তাদের কৃষকের কথা মাথায় রেখে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না।যার দরুণ অনেক ক্ষেত্রেই ভাল ভাল সিদ্ধান্ত বা কথা লিপিবদ্ধ থেকে যায়,বাস্তবরূপ লাভ করে না।ফলে বাম্পার ফলনেও কৃষকের মুখে হাসি ফুটে না বাম্পার ফলনেও হয় কৃষকের সর্বনাশ।