
*র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান-১৪, ১৩ এবং ১২ এর সম্মিলিত অভিযানে জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ থানাধীন পাঠহাটি এলাকায় বহুল আলোচিত সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিমকে নৃশংসভাবে হত্যাকান্ডের চাঞ্চল্যকর ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম ওরফে বাবুসহ জড়িত ০৪ জনকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ১৪ জুন ২০২৩ তারিখ সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে বকশীগঞ্জ উপজেলার পাঠহাটি এলাকায় কতিপয় সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলা শিকার হন এবং একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা তাকে রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় সাংবাদিক ও পথচারীরা তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রাথমিকভাবে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে সেই রাতেই জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। ভিকটিম নাদিমের অবস্থা অবনতি হলে ১৫ জুন ২০২৩ তারিখ বৃহস্পতিবার সকালে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ঐদিন বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাদিম মৃত্যুবরণ করেন। উক্ত ঘটনার দুইদিন পর ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে মাহমুদুল আলম বাবুকে প্রধান অভিযুক্ত করে অফিসার ইনচার্জ বকশীগঞ্জ থানার মামলা নং-১১/১২৪, তারিখ ১৭/৬/২৩ ইংরেজি, ধারা-৩০২/৫০৬/৩৪ পেনাল কোড- ১৮৬০ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের ঘটনা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হয় এবং সাংবাদিক নাদিমের উপর হামলার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এছাড়াও, সাংবাদিক সংগঠন সহ বিভিন্ন মহল এ ঘটনার খুব প্রকাশ ও তীব্র নিন্দা জানায়। র্যাব উক্ত ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি চলমান রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ জুন ২০২৩ তারিখ র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা, র্যাব-১৪, সিপিসি-১, জামালপুর এর একটি আভিযানিক দল, র্যাব-১৩, সিপিসি-২, নীলফামারী ক্যাম্প এর সহযোগিতায় পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ ও র্যাব-১২, সিপিসি-৩, বগুড়া, বগুড়ার দুপচাঁচিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সাংবাদিক নাদিম হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ১। মাহমুদুল আলম বাবু (৫০), পিতা-মৃত শাহেদুল হক এবং তার ০৩ জন সহযোগী ও এজাহার নামীয় আসামি ২। মোঃ জাকিরুল ইসলাম (৩২) পিতা-মোঃ জালাল উদ্দিন, ৩। মোঃ রেজাউল করিম (৩৮), পিতা- মৃত জমি শেখ, সর্ব সাং- পশ্চিম কালামেরবার্তী, ৪। মোঃ মনিরুজ্জামান মনির ওরফে মনিরুল (৩৫), পিতা- আলহাজ্ব মফিজল হক, সাং- পূর্ব কালামেরবার্তী, সর্ব থানা- বকশীগঞ্জ, জেলা -জামালপুর কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা সাংবাদিক হত্যাকান্ডের সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য প্রদান করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুর পরিকল্পনাতেই এই হত্যাকাণ্ড টি সংগঠিত হয়। সাংবাদিক নাদিম সাম্প্রতিক সময়ে বাবুর অপকর্ম নিয়ে অনলাইনে পোর্টালে কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাবু ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিক নাদিমকে বিভিন্নভাবে হুমকি সহ তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে ময়মনসিংহের সাইবার ট্রাইব্যুনাল মামলাটি খারিজ করে দেন। মামলা খারিজের বিষয়টি নিয়ে ভিকটিম নাদিম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়ায় বাবু আরো ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিক নাদিমকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৪ জুন ২০২৩ তারিখ রাত অনুমান ১০ টার দিকে ভিকটিম নাদিম বাড়ি ফেরার পথে বকশীগঞ্জ বাজারের পাটহাটি এলাকায় বাবু তার সন্ত্রাসীদের নিয়ে নির্জন স্থানে ওঁত পেতে থাকে। ভিকটিম নাদিম তার সহকর্মীসহ মোটরসাইকেল যুগে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বাবুর সন্ত্রাসীরা তাকে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে পিছন থেকে দৌড় দিয়ে বাবুর আরো কয়েকজন লোক এসে তাকে মারতে মারতে পাশের একটি অন্ধকার গলিতে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায় এবং এলোপাথাড়ি আঘাত করতে থাকে। ঐ সময় প্রধান অভিযুক্ত বাবু ঘটনাস্থল এর নিকট থেকে পুরো ঘটনা নেতৃত্ব দেন। ভিকটিম নাদিমের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে বাবু ও তার সন্ত্রাসী গ্রুপ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
গত ১৫ জুন ২০২৩ ইংরেজি তারিখে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিক নাদিম মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনার পর থেকে মাহমুদুল আলম বাবু ও তার দুই সহযোগী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তার এড়ানোর লক্ষ্যে পঞ্চগড় দেবীগঞ্জে তার এক দূর সম্পর্কে আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় RAB কর্তৃক গ্রেপ্তার হয়। পক্ষান্তরে এজাহার নামীয় আসামি মোঃ রেজাউল করিম (৩৮)কে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া এলাকা হতে গ্রেপ্তার করা হয়।