
শেরপুরের এলিফ্যান্ট ট্রেইল নামে খ্যাত মেঘালয় সংলগ্ন এই বর্ডার রোডটি ছিলো অনেক এবড়ো-খেবড়ো আর কাদাময়। কিন্তু উন্নয়নের জোয়ারে রাস্তা এখন তেলের মত। মাইলের পর মাইল ড্রাইভ করবেন কোন গাড়ি নেই। শুধু মাঝে মাঝে দুয়েকটা টমটম বা অটো। জনবিরল অঞ্চল। মাঝে মাঝে একটা দুইটা জনবসতি। হাজং গারোদের চার্চ, কোচেদের মন্দির! ছোট ছোট টিলা, ধানক্ষেত, পাহাড়ী নদী সবমিলিয়ে মাইলের পর মাইল সীমান্ত জুড়ে অসাধারণ ল্যান্ডস্কেপ। তাছাড়া পুরো পাহাড়ী রাস্তা জঙ্গলে ছাওয়া। এই অঞ্চল হাতির তথাকথিত উৎপাতের জন্য বিখ্যাত। তবে আমি মনে করি অভিযোগটি ভুল। ঐতিহাসিকভাবে হাতিদের চলাচলের রাস্তায় ঘরবাড়ি, কাঁটাতার তুলে বাঁধা সৃষ্টি করে বরং আমরা মানুষরাই হাতিদের উৎপাত করছি।
শুরু করবেন জামালপুরের বকশিগঞ্জ থেকে। রাস্তাই আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে শেরপুরের শ্রীবর্দী, ঝিনাইগাতি, নালিতাবাড়ি হয়ে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া হয়ে একদম নেত্রকোনার দূর্গাপুর পর্যন্ত। অবশ্য নালিতাবাড়ি আলির মোড়ের পর রাস্তা খারাপ হওয়া শুরু করবে। তাই যারা নিজ গাড়ি বা বাইকে যাবেন তারা নাকুগাঁও স্থলবন্দরের কাছাকাছি এসে ডানদিকে গাড়ি ঘুরিয়ে চলে যেতে পারেন শেরপুর সদরের দিকে।
পথে পরবে অসাধারণ কিছু গ্রাম ও পাহাড়ি নদী! রাজাপাহাড় টিলা। লাউচাপড়া, গজনী, মধুটিলা তিন তিনটা ইকোপার্ক। জায়গাগুলোর কি নাম! কর্ণজোড়া, নকশী, মধুটিলা, বাবলাকোনা, ভাইডাঙা, বালিজুড়ি, মেঘাঢল, লাউচাপড়া, গজনী, সন্ন্যাসী, ধানশাইল, রাঙটিয়া, ডুমুরতলী হয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত কামালপুর। কর্ণেল তাহেরের কামালপুর। আর চেলাখালী, মালিঝি, সোমেশ্বরী, পাগলা, কর্ণজোরা, মর্শি, ভোগাইসহ আরো অনেক পাহাড়ী নদী। একবার আসলে এই জনপদের প্রেমে না পড়ে পারবেন না!
- সংগৃহীত।