ময়মনসিংহ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তরের ‘ক’ সার্কেলের ইন্সপেক্টর কবিরুল হাসান যোগদান করার পর থেকেই মাদকে সয়লাব হয়ে পড়েছে ময়মনসিংহ সদর এলাকা
ময়মনসিংহ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তরের ‘ক’ সার্কেলের এক ইন্সপেক্টরের নির্দেশেই কালোবাজারে যায় মদের চালান, দেদারছে তা বিক্রি হয় হকারি করে। যৌনপল্লীসহ কয়েকটি স্পটে হাঁকডাক দিয়ে মাদক বেচাকেনার বেহালচিত্র প্রথম দেখছেন নগরবাসী। জানা গেছে, ওই ইন্সপেক্টরের তত্ত্বাবধানে অন্তত ২৭ জন হকার এই খোলামেলা মাদকবাণিজ্য চালাচ্ছে বাধাহীনভাবে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ময়মনসিংহ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তরের ‘ক’ সার্কেলের ইন্সপেক্টর কবিরুল হাসান যোগদান করার পর থেকেই ময়মনসিংহ সদর এলাকা মদ আর মাদকে সয়লাব হয়ে পড়েছে। মরণনেশা ইয়াবা, হেরোইন, চোলাই মদ ও দেশিয় মদের বেচাকেনাও চলছে বেপরোয়াভাবে। পুলিশি অভিযানে মাদক উদ্ধার ও ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হলে তাদের দেয়া বক্তব্যে ওই ইন্সপেক্টরের সঙ্গে মাসোহারা সম্পর্কিত দহরম মহরম সম্পর্কের তথ্য উঠে আসে। খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, শহরের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী কেওয়াটখালীর হামে, রফিক, সোহেলদের সাথেও মাদক ইন্সপেক্টরের দারুণ সখ্যতা রয়েছে। পোড়হিত পাড়ার নুরেছা, হারুন হেরোইন বিক্রি করলেও তারা বরাবরই মাদকের অভিযানমুক্ত থাকছে। রহমতপুরে রাহেলা ইয়াবা ও গাজার ব্যবসা করে তার সাথেও মাদককর্তার গলায় গলায় পিরিত। সদরের একমাত্র দেশি মদের ডিলার রুপার সাথে আতাত করে দেশিয় মদে ভেজাল মিশিয়ে প্রতিদিন শতাধিক লিটার মদ কালোবাজারে বিক্রি করে থাকে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যৌনপল্লীতে কমপক্ষে ১৮ জন দেশিয় মদবিক্রেতা রয়েছে। দুপুর ২টার পর এসব কালোবাজারীরা হাঁকডাক ছেড়েই মদ বিক্রি শুরু করেন। মদের মূল্য পরিশোধ বাদেও প্রতিদিন একেকজন মাদক হকারের কাছ থেকে আড়াইশো টাকা করে বখড়া হাতিয়ে নেয়া হয়। ইন্সপেক্টর কবিরুল হাসানের নামে চিহ্নিত দুই ব্যক্তি প্রতিদিন নির্দ্দিষ্ট সময়ে বখড়া আদায় করে নেয় বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে। ব্যক্তিগত বখড়ার ব্যাপারে অধিক মনোযোগী হওয়ায় মাদক ‘ক’ সার্কেলের রাজস্ব অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।তবে সদর ইন্সপেক্টর কবিরুল হাসান জানান, পারমিট বিহীন এক ফোটা মদ না দেয়ার জন্য ডিলারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তবে যৌনপল্লীসহ প্রতিদিন শতাধিক হকার দেশিয় পারমিটহীন মদ সংগ্রহ করে কালোবাজারী হকারদের কাছে সরবরাহ হচ্ছে।
মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের একাধিক সুত্র জানায়, সদর ইনপেক্টর বড়কর্তাদের তোষামোদে পটু। অভিযানিক কাজ খুব কমই করেন। এছাড়া শহরের চিহ্নিত অধিকাংশ মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে তার পরিচয় রয়েছে। বিভিন্ন সোর্সের তথ্যদানের পরও সে অভিযানে আগ্রহ দেখান-না। নানা অজুহাতে তা এড়িয়ে যান। মাদকের বাবুল সাহেব ইতিপূর্বে যৌনপল্লীতে বিভিন্ন হকারদের ঘরে অভিযান চালাতে চাইলে তিনি বাধাগ্রস্থ করেন। পরে অভিযানিক টিমকে ফিরে যেতে হয়। অভিযান চালালে মদ বিক্রি কমে যাবে। যৌনপল্লীতে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ জন হকার রয়েছে। তারা প্রতিদিন ৮ লিটার থেকে ১৬ লিটর মদ দেশিয় মদের ডিলার এর কাছ থেকে সংগ্রহ করে। এটা দিনের আলোতে সরবরাহ হয় বলে সবাই তা জানে। হকারদের কাছে চড়া দামে পিংকু রিংকুরা মদ বিক্রি করে তারাও এখন কোটিপতি।হাকারদের মদকসেবনে রাতের শহর থাকে উত্তপ্ত। কারন তারা বিকেল থেকে মদ বিক্রী শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত বিক্রী করে থাকে। প্রতি মাসে প্রতি পারমিটধারীর জন্য মাসে সাড়ে ৯ লিটার মদ বরাদ্দ থাকলেও অনেকে মদ উত্তোলন করেন না। সুত্রমতে সাড়ে ৭শ’র মত পারমিটধারী রয়েছে। কিন্তু প্রতি সপ্তাহেই বিপুল পরিমাণ চালান দিয়ে উত্তোলন করেন সদর ডিলার।
অভিযোগ রয়েছে বেশিরভাগ দেশিয় মদ চলে যায় কালো বাজারের হকারদের কাছে। ফলে রাতে শহরে অস্থির পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেকে মদসেবন করে নানা ধরনের অপরাধ সংঘঠিত করে থাকে। ‘ক’ অঞ্চলের শহর কিংবা গ্রামে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান খুব কমই হয়। শম্ভুগজ্ঞ ঋষিপাড়ায় চুলাই মদ বিক্রী হচ্ছে হরদম। যৌনপল্লীতে গভীর রাত পর্যন্ত হকার মদ বিক্রী করে। সদর ইনপেক্টর কাবিরুল হাসানের মাদক নিয়ন্ত্রনে অনিহা থাকলেও নিয়মিত মাসোহারা আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।