ময়মনসিংহের ত্রিশালের কানীহরী ইউনিয়নে দু:স্থ্য ও অসহায় দরিদ্রদের সহায়তার জন্য সরকারের দেয়া ভিজিডি কার্ড নিয়ে চরম ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ ওঠেছে ইউপি সচিব আঃ লতিফের বিরুদ্ধে । সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী এলাকার অসহায়, দু:স্থ ও বিধবা এবং নিন্মআয়ের মানুষের মধ্যে ভিজিডি কার্ড বিতরনের কথা থাকলেও সে নিয়ম মানা হয়নি।নীতিমালা ভঙ্গ করে ইউপি সচিব লতিফ কে, হাজার হাজার টাকা লেনদেনের মাধ্যমে ভিজিডির কার্ড পেয়েছেন বিদেশে বসবাসকারী, স্বচ্ছ্বল, চাকুরীজীবি ও বিত্তশালীরা!এ নিয়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয় অসহায়, হতদরিদ্র ও দু:স্থ্যদের মাঝে। ভিজিডির কার্ড-এর বিষয়ে কথা বলতে গেলে ইউপি সচিব লতিফ প্রভাবশালীদের সহায়তায়, দু:স্থ্যদের নানাভাবে হয়রানি ও নিজ এলাকার প্রভাব কাটিয়ে বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।ভিজিডি কার্ডের তালিকাভুক্তির চরম অনিয়ম ও দূর্নীতির প্রতিকার চান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, দু:স্থ্য ও হতদরিদ্রদের পরিবার!
জানা গেছে, সরকার সারা দেশব্যাপী হতদরিদ্র, অসহায়, ছিন্নমূল ও দু:স্থ্য এবং বিধবা নারীদের স্বচ্ছ্বলতা ও সক্ষমতা সৃষ্টির জন্য প্রায় ১১লাখ মহিলাকে ভিজিডির মাধ্যমে প্রতি মাসে খাদ্য সহায়তা দিয়ে থাকে।এই ভিজিডি প্রকল্পের আওতায় ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কানীহরী ইউনিয়নেও কার্যক্রম শুরু হয় । সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও দায়িত্বপ্রাপ্তরা প্রতিটি গ্রামের অসহায়, হতদরিদ্র, দু:স্থ্য ও সহায় সম্বলহীন নারীদের তালিকা তৈরীর কথা থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন! ঘুষ দিয়ে ভিজিডি কার্ড হাতিয়ে নিচ্ছে ধনী লোক, বঞ্চিত হচ্ছে গরীবরা!নিয়মানুযায়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের তৈরী করা তালিকা উপজেলা কমিটির কাছে জমা দেয়া হয়। পরে প্রতিটি ইউনিয়নের দেওয়া তালিকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার নেতৃত্বে উপজেলা কমিটি কর্তৃক অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত তালিকা মোতাবেক উপকারভোগীর নাম-ঠিকানা তালিকাভুক্ত করার পর প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা তালিকাভুক্তদের ভিজিডি কার্ডে ও বইয়ে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু কোন নিয়ম কানুন ই আটকাতে পারেনি সচিব লতিফ এর ঘুষ বানিজ্য! ঘুষ দিয়ে অনেক ধনী লোক ভিজিডি চক্রের অর্ন্তগত হয়েছেন আবার ঘুষ না দিতে পারা অনেক দূঃস্হ্য অসহায় পায়নি ভিজিডি কার্ড!
এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন ইউপি সচিব আঃ লতিফ। ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জানান বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তবে স্হানীয় সচেতন মহল মনে করেন বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ উচিত।