দেশে প্রতি বছর জনসংখ্য বাড়ছে, বর্ধিত জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মিটাতে ধান ও গমের ফলন বাড়ানো অতীব জারুরী। সীমিত জমিতে আমন ধানের আবাদ বাড়ানো ও ফলন বৃদ্ধিতে সমন্বিত কার্যকর ভুমিকা রাখতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, আমন ধানের আবাদ বৃদ্ধি ও ফলন বৃদ্ধি এবং উৎপাদন বাড়াতে ধান বিজ্ঞানী, কৃষিবিদ, কৃষক ও কৃষি সম্প্রসারণবিদদের আরো কার্যকরী ভুমিকা পালন করতে হবে। বাংলাদেশে ধানের উৎপাদন চহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও গম ও পাট উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত, দেশের ধান উৎপাদন পর্যাপ্ত হলেও বিশ্বের অন্যান্য ধান উৎপাদন কারী চীন, ভিয়েতনামের ধানের হেক্টর প্রতি গড় ফলনের তুলনায় আমাদের দেশে হেক্টর প্রতি গড় ফলন কম। বিশ্বে বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে তৃতীয়স্থানে রয়েছে। আমন ধান কৃষকের কাছে একটি নিরাপদ ফসল হিসেবে বিবেচিত, আমন ধানের ফলন বৃদ্ধিতে উপযুক্ত জাত ও ভাল বীজ নির্বাচন,জমি তৈরী সঠিক বয়সের চারা সময়মত রোপণ আগাছা দূরীকরণ, সার ও পানি ব্যবস্থাপনাসহ সেচ এবং রোগ ও পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা ফলনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। অধিক ফসল ফলাতে আমনে নতুন উদ্ভাবিত বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনস্টিটিউট, বিনাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের স্বল্প সময়ের জাতের আমন ধানের আবাদ বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনস্টিটিউটের আয়োজনে সোমবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম কনফারেন্স হলে আমন ধানের ফলন বৃদ্ধিতে করণীয় শীর্ষক আঞ্চলিক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক ডঃ শাহজাহান কবীরের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বাংলাদেশ পরমাণু গবেষনা ইনস্টিটিউটের (বিনা) মহাপরিচালক আর্ন্তজাতিক ধান বিজ্ঞানী কৃষিবিদ ডঃ মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম অপু, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক কৃষিবিদ তাজুল ইসলাম পাটোয়ারী, বিএডিসির সদস্য (বীজ ওউদ্যান) কৃষিবিদ মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) পরিচালক (গবেষনা) ডঃ মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান, বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) পরিচালক (প্রশাসন ও সাধারন পরিচর্যা) ডঃ মোঃ আব্দুল লতিফ, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ সুশান্ত কুমার প্রামানিক বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। দিন ব্যাপী আঞ্চলিক কর্মশালায় বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ডঃ ইব্রাহীম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ।
আঞ্চলিক কর্মশালায় ময়মনসিংহের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মতিউজ্জামান লাভলু, শেরপুরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড.সুকল্প দাস নেত্রকোনার উপপরিচালক কৃষিবিদ নুরুজ্জামান, বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ জিয়াউর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জামালপুরের উপপরিচালক কৃষিবিদ জাকিয়া সুলতান, ময়মনসিংহ হর্টি কালচারের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ শহীদুল্লাহ, তেলজাতী ফসলের উৎপাদনবৃদ্ধি প্রকল্পের মনিটরিং কর্মকর্তা কৃষিবিদ খাইরুল আমীন ও বৃহত্তর ময়মনসিংহের ফসলের নিবিরতা বৃদ্ধি করণ প্রকল্পের উপ প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মোস্তফা কামাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
কর্মশালায় উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তরা বলেন কৃষির ভান্ডার হিসেবে ময়মনসিংহ বিভাগ পরিচিত, খাদ্য-শষ্য উৎপাদনে ময়মনসিংহ উদ্বৃত্ত এলাকার সুনাম ধরে রাখতে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিবিড় ভাবে কাজ করতে হবে। প্রশিক্ষন লদ্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে খাদ্য-শষ্যের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের উৎসাহিত করতে হবে। পরিবর্তিত জলবায়ুর কারণে আমন ধান চাষেজৈবিক এবং অজৈবিক সমস্য নিরসনে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রভাবে আমন মৌসুমে ধানের আবাদ ও ফলন বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে ধান বিজ্ঞানী ও কৃষি সম্প্রসারণবিদরা নিরলস ভাবে কাজ করতে হবে। কর্মশালায় বক্তারা আরো বলেন বর্ধিত জনসংখ্যার চাপে দেশের আবাদ যোগ্য জমির পরিমাণ প্রতি বছর কমে যাচ্ছে,আবাদী জমির আনুভূমিক বৃদ্ধির সুযোগ না থাকায় ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণে তেল জাতীয় ফসল উৎপাদন বাড়াতে হবে। দেশের এক ফসলি জমিকে দুই ফসলি,দুই ফসলি জমিকে তিন ফসলি ও তিন ফসলি জমিকে চার ফসলের আওতায় এনে খাদ্য উৎপাদন বহুলাংশে বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে দেশের অধিকাংশ জমি বোরো ধান চাষের আওতায় চলে গেছে,ফলে দিনদিন আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছ। তাই জমির পরিমাণ বাড়িয়ে ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ খুবই কম তাই একমাত্র ফসল বিন্যাসে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।