শেরপুর জেলা কন্ট্রোল রুমে কর্মরত এস আই মোঃ শামছুল হক বিপি নং ৭৬৯৪০৪৬২২৪ যৌতুকের দাবীতে ৩ সন্তানের জননী স্ত্রী নাজমুন নাহারকে অমানুষিক নির্যাতন করে স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই আবারও বিয়ে করেছে বলে জানা গেছে। অপর দিকে প্রথম স্ত্রীকে বরণ পোষণ নাদিয়ে খুন জখমের হুমকী দিচ্ছে। এসকল ঘটনার অভিযোগ উত্থাপন করে মুক্তাগাছা থানায় জিডি নং ৬৬১, ১৩আগষ্ট/২০২৩ ও শেরপুর জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিীখত অভিযোগ করেছেন।
ঘটনার বিবরনে প্রকাশ, মোছা: নাজমুন নাহার (৪৫) এর স্বামী- এসআই(নিরস্ত্র) মো: সামছুল হক, বিপি- ৭৬৯৪০৪৬২২৪, বর্তমানে শেরপুর জেলা কন্ট্রোল রুমে কর্মরত। নাজমুন নাহারের সাথে বিগত ২৫ মার্চ /১৯৯৭ তারিখ সামাজিক ও উভয়ের পরিবারের সম্মতিতে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক রেজিষ্ট্রি মূলে বিবাহ সম্পন্ন হয়। সু-দীর্ঘ ২৬ বছরের অধিক স্বামীর সহিত ঘরসংসার করিয়া এই দম্পতির উরশে ০৩ (তিন) সন্তানের জন্ম হয়। ০৩ সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছি এবং মেয়ের ঘরেরও নাতি/নাতনি রয়েছে। অবশিষ্ট ২ সন্তানের মধ্যে ছোট ছেলে কুরআনের হাফেজ এবং বড় ছেলে অধ্যয়নরত আছে। নাজমুন নাহার জানতে পারি যে, তার স্বামী এসআই (নিরস্ত্র) মো: সামছুল হক নাজমুন নাহারের সম্মতি ব্যতিরেখে এবং নাজমুন নাহারের পরিবারের সদস্যদের কারো কাছে না নাজিয়ে অন্য একজন মহিলার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। পরবর্তীতে নাজমুন নাহার তার স্বামীর বিয়ের খবর জানতে পালে এবং বিয়ের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করিলে সে তাকে শারীরিক ভাবে ব্যাপক নির্যাতন শুরু করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত-বিক্ষত করে। পরবর্তীতে নাজমুন নাহারকে ভয়ভীতি দেখায় এবং স্ট্যাম্পের উপর ২য় বিয়ের অনুমতির জন্য লিখিত স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করে। সে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর না করিলে নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়, মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং আমাকে চুলের মুঠি ঘরে ঘর থেকে বের করে দেয়। এরপরও তার পরিবারের লোকজন জানাইলে এই অন্যায়ের কোন প্রতিবাদ করেনি বরং তার বাবা, মা, ভাইয়েরা আমাকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে।
নাজমুন নাহার কোথাও কোন আশ্রয় না পেয়ে নিরুপায় হয়ে ছেলেদের নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যায়। পরবর্তীতে তার পরিবারের লোকজন এবং গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা সামছুল হক এবং তার পরিবারের লোকদের সাথে বারবার সমঝোতার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। দীর্ঘদিন ধরে নাজমুন নাহার সন্তানেরাসহ পিতা-মাতার বাড়িতে থাকার কারণে তাদের ভরণপোষণ চালাতে গরীব বাবা মায়ের কণ্ঠসাধ্য হয় এবং নাজমুন নাহারকে শশুর বাড়িতে পাঠাইয়া দেয়। শশুরবাড়ীতে আসার পর তার উপর স্বামী এবং শশুরবাড়ীর লোকজনের নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। শশুরবাড়ীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে স্বামীর কর্মস্থল শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী সার্কের অফিসে যায়। তার অফিসে নাজমুন নাহারকে দেখে তার উপর শারীরিক নির্যাতন করে। সন্তানদের কোন ভরণ পোষণ না দেওয়ার কারণে খরচাদি চাইলে তাদের হত্যার হুমকি দিয়ে থাকে এবং মরে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। অবুঝ ছেলেদের সাথে চরম আতঙ্কে দিন যাপন করিতেছি।
এব্যাপারে সামছুল হকের সাথে কথা বলতে যোগাযোগ করলে নিজেকে তার মিসেস দাবী করে জানান সে মাত্র অফিস থেকে এসছেন। আপনি কে জিজ্ঞেস করলে তিনি তার মিসেস দাবী করেন। এর পরে সামছুল হক জানান, আমি আমার বাবা-মায়ের সেবা করলে নাজমুন নাহার সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করে রাখতো। আমি এখনো মাসে মাসে ১০ হাজার টাকা দেই। আমি তার সন্মতি ক্রমেই বিয়ে করেছি।