ময়মনসিংহ যৌনপল্লীতে সরদারনীর অধীনে মাত্র একমাসে কিশোরীসহ ২৬ জন তথাকতিথ যৌনকর্মী প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে ১ নং ফাড়ি ইনচার্জ ওয়াজেদ আলী। বিগত কয়েক যুগের রেকর্ড বঙ্গ করেছেন ওয়াজেদ আলী। ভালো চাকুরীর লোভে, প্রেমিকের প্রতারনায়, কেউ আবার স্ব-ইচ্ছায় এই পেশায় এসেছে বলে জানা গেছে। সব চেয়ে অবাক কান্ড এসকল কিশোরী ও মেয়েরা দালাল কর্তৃক চরম নির্যাতনের ফলে আত্নস্বীকৃত যৌনকর্মী হওয়ার প্রবেশাধিকার পেলো কি করে? যৌনপল্লীতে সরদারনী নতুন কোন মেয়ে ঢুকালে ফাড়ি ইনচার্জকে পুলিশের খাতায় নাম লিখাতে দিতে হয় ৬০ হাজার টাকা। প্রকার ভেদে আবার বেড়েও যায়। এভাবেই প্রতারিত হয়ে আসা মেয়েগুলো অন্ধকার এই নরক পল্লীতে বন্ধি হয়, আর দেহ ব্যবসা করতে বাধ্য হয়। এসকল মেয়েদের সন্ধান তাদের আদরের পিতা-মাতারা আর কোনদিন পায়না।
সুত্র জানায়, দালাল ও যৌনপল্লীর সরদারনীরা নতুন মেয়েটি পতিতা পল্লীতে প্রবেশের পর এদের এমন মন্ত্র পড়ানো হয়, তখন সরদারনীর চোখের ইশারা ছাড়া নতুন মেয়েরা আর কোন কথাই বলেনা! তারপর নতুন মেয়েদের বাবা-মায়ের দেয়া আদরের নাম পরিবর্তন করে দেয়া হয়, নতুন নাম। পাল্টে দেয়া হয় ঠিকানাও। নোটারীতে করা হয় এভিডেভিড। কোন মেয়ের আত্নস্বীকৃত যৌন ব্যবসার এভিডেভিড করার ক্ষমতা কি নোটারী পাবলীক রাখেন? এর পরে ৬০ হাজার টাকা আর মেয়েকে নিয়ে যাওয়া হয় ফাড়ির ইনচার্জের কাছে। নাম ঠিকানা তুলা হয় ফাড়ির খাতায়। মেয়েটির বাড়ি কোথায় ? কেন এমন পেশায় আসলো? প্রকৃত ঠিকানা কোনটারই প্রয়োজন বোধ করেনা ফাড়ি ইনচার্জ? নাম লিখে দেয়ার পর সে “পতিতা”। প্রতিদিন হারারো অপরাধ হয় এই পতিতা পল্লীতে। যৌনপল্লীর একাধিক সুত্র ও ফাড়ি সুত্রে জানা যায়, গত সেপ্টেম্বর/২০২৩ মাসেই যৌন পল্লীতে ঢোকানো হয়েছে কিশোরীসহ ২৬ জন মেয়ে। ১ সেপ্টেম্বর পুরাতন ১ নং বাড়ি বেবী তুলেছেন এক নতুন মেয়ে, ২ সেপ্টেম্বর আলমের পুরাতন বাড়িতে সরদারনী জহুরা তুলেছেন ১ জন নতুন মেয়ে, যাকে দেখতে অবুঝ সন্তানের মতই! জহুরা ১১ সেপ্টেম্বর আরো একজন নতুন মেয়ে তুলেন। ৩ সেপ্টম্বর সরদারনী শিল্পী নতুন ঠাকুর বাড়ীর নতুন মেয়ে তুলেছেন, সরদারনী বৃষ্টি ৩ নং নতুন বাড়িতে তুলেছেন এক নতুন মেয়ে ও ৪ ময়মননং নতুন বাড়ির হালিমা তুলেছেন নতুন মেয়ে। বৃষ্টি আবারো ৭ সেপ্টেম্বর আরেকটি মেয়ে তুলে। যৌনপল্লীর কতিথ নেত্রী হাসনা ১৬ ও ২০ সেওেপ্টম্ব ২ নতুন মেয়ে তুলেছেন। ৩ নং বাড়ির নাসিমা ৮ সেপ্টেম্বর নতুন মেয়ে তুলেছেন। বিনা ১নং বাড়ী ১২ সেপ্টেম্বর নতুন মেয়ে তুলেন। সুমা আলমের বাড়ী ১৪ সেপ্টেম্বর নতুন মেয়ে তুলেন। ২০ সেপ্টেম্বর তুলা হয় ৩ জন মেয়েকে! সরদারনী শিমা, আশা ও বর্ষা ৩ জন নতুন মেয়ে উঠান। নেত্রী লাভলী ২২ সেপ্টেম্বর সেও নতুন মেয়ে তুলেছেন। এভাবে ২৬ জন সেপ্টেম্বর মাসে যৌন পল্লীতে তুলা হয়েছে। ১ নং পুলিশ ফাড়ি ইনচার্জ ওয়াজেদ আলী যোগদান করার প্রথম মাসেই যৌনপল্লীতে মেয়ে তুলার ধুম পড়ে গেছে। অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছেন ফাড়ি ইনচার্জ ওয়াজেদ আলী। এ ব্যপারে ফাড়ি ইনচাজ ওয়াজেদ আলীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আপনি আমাকে জানিয়েনে আমি ব্যবস্থা নেবো। আমি নতুন এসেছি গুছিয়ে নেই।