মোঃ ফরহাদ হোসেন মায়া: যোগাযোগের অন্যতম সহজ, সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ মাধ্যম রেল রেলপথ। সম্প্রসারণ-আধুনিকায়নের মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশকে রেলের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। সরকার রেলপথ সম্প্রসারণ, নতুন রেলপথ নির্মাণ ও সংস্কার, রেলপথকে ডুয়েলগেজে রূপান্তরকরণ, নতুন ও বন্ধ রেলস্টেশন চালু, নতুন ট্রেন সার্ভিস চালু, কম্পিউটার বেইজড সিগন্যালিং ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং ট্রেনের নতুন কোচ সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছে। নতুন নতুন জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় এনে অভ্যন্তরীণ রেল যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নসহ আন্তর্জাতিক রেল যোগাযোগ, বিশেষ করে ট্রান্স এশিয়ান রেল নেটওয়ার্ক, সার্ক রেল নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠায় সরকারের প্রচেষ্টা দৃশ্যমান।
এর মধ্যে অন্যতম ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রোড়। এই রোড়ে প্রতিদিন ২৪ টি ট্রেন যাতায়াত করে। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থান হয়ে উঠেছে পিয়ারপুর রেলস্টেশন। ময়মনসিংহ সদর, জামালপুর সদর, নকলা উপজেলা ও মুক্তাগাছা উপজেলার প্রান কেন্দ্রে অবস্থিত এই স্টেশন।
একসময় ভোগান্তির শেষ ছিল না এই স্টেশনে। দূরদূরান্ত থেকে যাত্রীরা রেল সেবা পেলেও ভোগান্তি পোহাতে হতো অন্যান্য সেবায়। দূর দূরান্ত থেকে আসা-যাত্রীরা বসার স্থান না পেয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হতো প্লাটফর্মে । ভিআইপি বসার স্থান থাকলেও সেখানে কিছু সংখ্যক যাত্রী বসে স্বস্তির পেত, বাকি যাত্রীদের যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে থেকেই অপেক্ষা করতে হতো ট্রেনের। নড়বড়ে ছিল নলকূপের অবস্থা, সাপ্তাহে দুইদিন ঠিক থাকলেও বাকি পাঁচ দিন থাকতো অকেজো।
আর এই ভোগান্তি থেকে যাত্রীদের কিছুটা স্বস্থির দিতে স্টেশন ইনচার্জ মোঃ আব্দুল মমিন নিজস্ব অর্থায়নে অনন্য যাত্রী সেবা চালু করেছে। যাত্রীদের জন্য ব্যবস্থা করেছেন ৮টি বসার স্থান ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, চাইলে যে কেউ সেখান থেকে পানি নিয়ে পান করতে পারছেন। তাছাড়া আরো চালু করেছেন ব্যতিক্রমী মাতৃদুগ্ধ কর্নার'সহ অনন্য যাত্রী সেবা।
পিয়ারপুর রেলস্টেশন ইনচার্জ মোঃ আব্দুল মমিন বলেন আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়ে কিছু কাজ সম্পুর্ন করেছি। তার মধ্যে অন্যতম ছিল বসার স্থান, বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা, মাতৃদুগ্ধ কার্ণার, ফ্যানের ব্যস্থা।
তিনি আরও বলেন এই জনসেবা মূলক কাজে অনেকেই আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন এর মধ্যে অন্যতম সহযোগী ছিলেন মর্তুজা পাহালোয়ান স্মৃতি ফাউন্ডেশন।
এ দিকে শফিকুল ইসলাম নামে একজন প্রবাসী ঢাকার যাত্রী বললেন, এরকম যাত্রী সেবা শুধুমাত্র জংশন গুলোতেই পাওয়া যেত। এখন পিয়ারপুর এর মত গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে এসব সেবা দেখে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি।
তার সঙ্গে যোগ দিয়ে আরেকজন হোসাইন আহাম্মদ(রোমন) বলেন, ‘এমন সেবা স্টেশনে আরও আগে দরকার ছিলো।এখন যে সেবা দেয়া হচ্ছে তা প্রশংসনীয় ।