নালিতাবাড়ীতে সমশ্চুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষককে ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মাথা ব্যথার ওষুধ দিতে গিয়ে জ্বর আছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখার বাহানা করে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর অঙ্গে স্পর্শ করে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত শিক্ষক মোঃ রেজাউল করিম (৪৫) ওই সমশ্চুড়া স্কুলেরই শিক্ষক ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা।
বুধবার (১০ জুলাই) সকালে উপজেলার পশ্চিম সমশ্চুড়ায় শ্লীলতাহানীর ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হলে ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করে থানা পুলিশ।
সূত্রমতে, সমশ্চুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক এবং পোড়াগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক রেজাউল করিম শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি সমশ্চুড়া বাজারে করেন ফার্মেসীর ব্যবসা । তারই কর্মস্থল বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মাথা ব্যথার ওষুধের জন্য বুধবার সকালে ফার্মেসী বন্ধ থাকায় ফার্মেসী সংলগ্ন রেজাউল করিমের বাড়িতে যায়। পরে রেজাউল ওই শিক্ষার্থীকে নিয়ে তার ফার্মেসীতে প্রবেশ করে থার্মোমিটার দিয়ে জ্বর মাপার বাহানা করেন । এসময় ওই কিশোরী মাথা ব্যথার কারণ জানালেও জ্বর আছে কিনা দেখতে হবে বলে রেজাউল ওই শিক্ষার্থীর শরীরের সম্পর্শকাতর অঙ্গে হাত দেন। এতে ওই কিশোরী শিক্ষকের মতলব টের পেয়ে চিৎকার দিলে ঘটনার প্রকাশ পেয়ে যায়।
পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থী তার অভিভাবকদের নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ করে। এসময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্যরা বিষয়টি নিয়ে বসার আহবান জানালেও অভিযুক্ত রেজাউল করিম তা এড়িয়ে যান। ফলে বিকেলে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নালিতাবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়েরের পর রাতেই রেজাউলকে গ্রেফতার করে থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলামের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল আলম ভুইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগীর মায়ের দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই কিশোরী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার অভিযুক্তকে শেরপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।