
ময়মনসিংহে সাবেক ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আসফাক আল রাফি শাওন (২৮) চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা পুলিশের একাধিক সংস্থ্যার চার্জশীট, তদন্ত প্রতিবেদনে ও নিহতের পিতার আবেদনের পর মামলাটি ১ম অতিঃ দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন থাকার পর ৫ আগষ্টের/২৪ এর পরে কোতোয়ালী মডেল থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম অজ্ঞাত কারনে আবারও অধিকতর তদন্তের প্রয়োজন বোধ করে সংশ্লিষ্ট আদলতে আবেদন করেছেন। ঘটনাটি ময়মনসিংহবাসীর নজরে এলে ফের এটি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার শুরু হয়। শুধু তাই নয় একটি কুচক্রী মহল ঘটনার সমালোচনা বিভ্রান্তিকর অপ-প্রচার শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যার মামলা নং- ৪৮ তাং ১৪/২/২০১৮। ধারা ৩০২ দ: বিধি।
সুত্র জানায়, ময়মনসিংহ জেলা ছাত্র লীগের সাবেক সহ সভাপতি আসফাক আল রাফি শাওন পূর্ব শত্রুতার কারনে ২৫ ফেব্রুয়ারী/২০১৮ সনে শহরের হরি কিশোর রায় রোডে মহিলা পরিষদের সামনে গুলি বিদ্ধ হন। গুলি বিদ্ধ শাওনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও ঢাকাস্থ ইবনেসিনা হাসপাতালে চিকিৎসা করানো সময়ে ৮ মার্চ/২০১৮ তারিখে মারা যান। এ ব্যাপারে নিহতের বাবা ও পরিবার কোন মামলা করবেনা মর্মে জেলা প্রশাসনে আবেদন করেন এবং নিহতের লাশ বিনা ময়না তদন্তে নিয়ে যান। আইন শৃংখলা বাহিনী ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে নিহতের দেহ থেকে উদ্ধার করা গুলি জব্দ করে, লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন। পরিবারের কেহ বাদী না হওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা নং- ৪৮ তাং ১৪/২/২০১৮ দায়ের করেন। যার তদন্তের দ্বায়িত্ব বর্তায় এস আই পলাশ চন্দ্র রায়ের উপর। মামলার তদন্তকারী অফিসার পলাশ চন্দ্র রায় তদন্ত শুরু করে বিভিন্ন সময়ে ৪ জনকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন সঞ্জয় দত্ত, আজিজুল হক, মোঃ আমিনুল ইসলাম হিমেল ও জুয়েল বাসুর। গ্রেফতারকৃতরা নিজেদের জড়িত থাকার কথা বর্ণনা দিয়ে দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবান বন্দি দিয়েছেন। ঘটনায় আরো জড়িত থাকায় দুজনের নাম প্রকাশ পায়। তারা হলেন সাদ্দাম ও নাহিদ।
পুলিশ দীর্ঘ সময় মামলাটি তদন্ত করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ স্বাক্ষ্য গ্রহন করে ৬ জনের বিরোদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। এ সময় নিহতের বাবা মোহাম্মদ আব্দুল কদ্দুস ময়মনসিংহের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যজিঃ আদালতে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে আবেদন করেন। যার নং-২৬৫/১৮। বিজ্ঞ বিচারক ময়মনসিংহের পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে আদেশ দেন। পিবিআই এর পুলিশ পরিদর্শক প্রদীব কুমার গোস্বামী নিখুদ তদন্ত করে ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তারা হলেন, সঞ্জয় দত্ত, এস এম আরিফুল হক ও আমিনুল হক হিমেল। নিহতের বাবা মোহাম্মদ আব্দুল কদ্দুসের আবেদন করা ৪ জনের মধ্যে দীপ্তকে তদন্তকারী কর্মকর্তা অব্যহতি দেন। বিজ্ঞ বিচারক চার্জশীট ও প্রতিবেদন আমলে নিয়ে বিচার কার্যের জন্য মামলাটি উচ্চ আদালতে পাঠান। সেই সুত্রে মামলাটি ১ম অতিঃ দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। দায়রা নং ২০৬৮/১৯।
দীর্ঘ ৬ বছর পর অর্থৎ ৫ আগষ্ট/২০২৪ এর পরে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম রহস্য জনক কারনে বিচারাধীন মামলাটি সংশ্লিষ্ট ১ম অতিঃ দায়রা জজ আদালতে অধিকতর তদন্তের জন্য গত ২ অক্টোবর/২০২৪ পুনঃআবেদন করেন। বিজ্ঞ বিচারক আবেদনটি সংযুক্ত করে নথিভুক্ত করেন। ফলে অধিকর তদন্ত করা মামলাটির খন্ড নথি কোতোয়ালী থানা হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু করেন। কোতোয়ালী থানার এস আই মাসুদ জামালী মামলাটি তদন্ত শুরু করে দফায় দফায় ঘটনাস্থলে যান।
সুত্র জানায়, এস আই মাসুদ জামালী মামলাটি প্রকাশ্যে ও গোপনে তদন্ত করলেও ঘটনা সংশ্লিষ্ট পূর্বকার তদন্তের বাইরে কোন স্বাক্ষ প্রমান পায়নি। যেহেতু মামলাটি দায়রা আদালতে বিচারাধীন আছে।এমতাবস্থায় মামলাটি বিচার কার্যে সাংঘর্ষিক অথবা বাদী যেন ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত না হয় সেই দিক বিবেচনা করা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব রয়েছে। এ ব্যপারে অধিকতর তদন্তকারী অফিসার মাসুদ জামালীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।