
ময়মনসিংহ নগরীর ব্যস্ততম এলাকা গাঙ্গিনার পাড়। এই এলাকাকে নগরীর প্রাণকেন্দ্র বলে সাধারণ মানুষজন। ঈদ, পূজা বা বিশেষ দিনগুলোকে সামনে রেখে জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোণাসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষজন নিত্যপণ্য থেকে শুরু করে বিশেষ দিনের কেনাকাটা করতে আসেন। ব্যবসা বান্ধব এই এলাকায় সব সময় ভীড় লেগেই থাকে। ভীড়ে ফাঁকে চোর, ছিনতাইকারী ও পকেটমার দল সব সময় উৎপেতে থাকে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লোকজনের পকেটকেটে রাখার কৌশলে। তবে পুলিশ সব সময়ই বাড়তি নজরদারি রাখায় নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়। চলতি ২০২৩ সনের ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে নগরীর প্রাণ কেন্দ্র ব্যবসা বান্ধব প্রিয় এই এলাকা গাঙ্গিনার পাড়কে চুরি ছিনতাই পকেটমারমুক্ত রাখার চ্যালেঞ্জ নিয়ে সফল হয়েছে।
যা গত কয়েক বছরের মধ্যে রেকর্ড বলেই নগরবাসী মনে করেন।

ঈদ কিংবা বিশেষ দিনকে সামনে রেখে ব্যবসা নির্ভর গাঙ্গিনার পাড় এলাকায় চুরি ছিনতাই পকেটমারদের উপদ্রপ। চাঁদাবাজিরোধ করতে আইন শৃংখলা বাহিনী ছিল কঠোর। চলতি ২০২৩ সালের ঈদুল ফিতরের বিশেষ কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা, ক্রেতা ও ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দেন পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভুঞা। পুলিশ সুপারের নির্দেশে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ গাঙ্গিনার পাড়সহ সারা নগরীতে বাড়তি নিরাপত্তার উদ্যোগ নেন। বিশেষ করে ব্যবসা নির্ভর গাঙ্গিনার পাড় মোড় থেকে রেলওয়ে স্টেশন মোড় পর্যন্ত ব্যস্ততম এলাকায় নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেন। পুরো রমজান জুড়ে ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও ঘরমুখো মানুষের সার্বিক নিরাপত্তায় চুরি ছিনতাই ডাকাতি ও পকেটমাররোধে কোতোয়ালি মডেল থানা নগরীর ১নং ফাড়িসহ বিভিন্ন ফাড়ি ও ডিবি পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই শতাধিক চোর, ছিনতাইকারী, ডাকাত গ্রেফতার করেছে। এ সব অপরাধীরা বিভিন্ন মামলায় জেলহাজতে রয়েছে। পাশাপাশি গাঙ্গিনার পাড় এলাকায় চিরচেনা হকারমুক্তকরনে পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি ছিলেন কঠোর অবস্থানে। ওসি শাহ কামাল আকন্দের কঠোর অবস্থানের ফলে শেষ পর্যন্ত গাঙ্গিনার পাড় ও সারা নগরীসহ সদর এলাকা ছিল অপরাধমুক্ত।

ফলে গাঙ্গিনার পাড় এলাকায় পুরো রমজান জুড়ে ছিল হকারমুক্ত এবং ছিলনা কোন ধরনের চুরি ছিনতাই পকেটমারদের উপদ্রপ। তবে বিচ্ছিন্নভাবে দু চারটে চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনা ছিল। যা অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় নেই বলেই চলে। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানান, পুরো নগরী সহ সদর এলাকার আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সড়ক মহাসড়কে আইন শৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি গ্রাম পুলিশ, ডিফেন্স পার্টি ও নিরাপত্তা প্রহরীদের যুক্ত করা হয়। নিরাপত্তা প্রহরী ও গ্রাম পুলিশদের আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে অধিকতর সহযোগিতা পেতে প্রনোদনা দেয়া হয়। এছাড়া মোটর মালিক, শ্রমিকদের সাথে পৃথক পৃথক সভা সেমিনার করা হয়েছে। একই সাথে ঈদ মার্কেটে দুরদুরান্ত থেকে আসা ক্রেতা সাধারণের সাথে সুন্দর ও ভাল আচরণ করার মানসিকতায় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে দফায় দফায় আলোচনা করা হয়। অপরদিকে গাঙ্গিনার পাড় এলাকাকে হকারমুক্ত করণের চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নে এই এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন সহ দিবারাত্রি টহল জোরদার করা হয়েছে। ফলে চলতি ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে নগরী ছিল নিরাপদ নির্বঘ্ন।

ঈদ পরবর্তী এক ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভুঞা বলেন, নগরীর ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে কেনাকাটা করতে আসা এবং ঘরমুখো মানুষের সার্বিক নিরাপত্তায় আইন শৃংখলা বাহিনী ছিল কঠোর অবস্থানে। নগরীতে চুরি ছিনতাই ডাকাতি ও পকেটমাররোধ করতে রমজান জুড়ে অভিযান চালিয়ে দুই শতাধিকের বেশি চোর, ছিনতাইকারী ও ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সকল অপরাধীরা বিভিন্ন মামলায় জেলহাজতে থাকায় চলতি ঈদুল ফিতরে চুরি ছিনতাই কমেছে।
তিনি আরো বলেন, ঘরমুখো মানুষের রাস্তায় চলাচল নিরাপদ ও সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছা নিশ্চিত করতে সড়ক ও মহাসড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। ফলে যানজট নিরসনসহ সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ ছিল। এ জন্য তিনি সকল মহলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। উল্লেখ্য ঈদের দিন ভোরে পৃথকভাবে দুটি হত্যকান্ডের ঘটনা ঘটলেও কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দের নেতৃত্বে চৌকস পুলিশ হত্যাকান্ডের ৮ ঘন্টার মধ্যে খুনীচক্রকে গ্রেফতারসহ হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হন।