
র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ এর একটি আভিযানিক দল গত সোমবার ২০০৫ সালের বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর সিরিজ হামলার চার্জশীটভুক্ত পলাতক আসামী আজিজুল হক গোলাপ (৩৮)কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৪।
র্যাব -১৪ এর অধিনায়ক মহিবুল ইসলাম খান মঙ্গলবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ১০ টায় র্যাব১৪ এর হেডকোয়ার্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো জানান, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশে একযোগে হাইকোর্ট সুপ্রিমকোর্ট, জেলা আদালত, বিমানবন্ধর মার্কিন দূতাবাস, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, প্রেসক্লাব ও সরকারি-আধা সরকারি স্থাপনায় সিরিজ বোমা হামলা চালায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়তুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ সংক্ষেপে (জেএমবি)। ঘটনার দিন সকাল ১১ টা থেকে ১১:৩০ এর মধ্যে দেশের ৬৩ জেলার প্রেসক্লাব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় প্রায় ৫০০ বোন বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। এই হামলায় নিহত হন ২ জন এবং আহত হয় দু শতাধিকের বেশী মানুষ।
উল্লেখিত ঘটনার দিন অর্থাৎ ১৭ আগস্ট ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে সারা দেশের মত ময়মনসিংহ শহরের চরপাতে মোড গাঙ্গিনার পাড় সিটি প্রেস ক্লাবের নিচে, পাটগুদাম চায়না ব্রিজের মোড় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কোটি তখন বার কাউন্সিলসহ বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। ময়মনসিংহে এই বোমা হামলার ঘটনায় ১২ সমাপ তো পিতা চিত্ত রঞ্জন বিশ্বাস সাং- মঙ্গল সিদ্ধ, ঘানা, আটপাড়া জেলা নেত্রকোণা, 31 রফিকুল ইসলাম টুটুল ১৭ ি মোঃ কামরুল হাসান সাং আকুম হাজীবাড়ী, হাফিজুর রহমান (২৫), পিতাঃ কি মিয়া, সাং- আজীব থানার কোতোয়ালী, জেলার ময়মনসিংহ এর গুরুতর আহত হয়। এরই পরিপেক্ষিতে, পুলিশ বাদী হয়ে ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালী থানায় একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইন-১৯০৮ এবং তৎসহ বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪ এ একটি মামলা রুজু করে। মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা ১১ সেপ্টেম্বর ২০০৬ খ্রি তারিখ উক্ত অসমী আজিজুল হক গোলাপ সহ আরো ১১ জনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
২০০৫ সালের সিরিজ বোমা হামলার পর থেকে অদ্যাবধি উক্ত আসামী দীর্ঘ ১৮ বৎসর যাবত নিজ পরিচয় গোপন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে ছিলো। বর্তমানে সে একটি স্বনামধন্য ফ্যাশন হাউজে সিনিয়র ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিল।
স্থানীয় সূত্রমতে জানা যায় যে, ময়মনসিংহ গৌরীপুর থানাধীন মাওহা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পা আব্দুর রহমান এবং সিদ্দিকুল ইসলাম ও বাংলা ভাই ও আজিজুল হক @ গোলাপসহ অন্যান্যরা সিরিজ বোম হামলার পূর্ববর্তী সময়ে নিয়মিত গোপন বৈঠক করতো। উক্ত গোপন বৈঠকে বিভিন্ন দেশসমূহে বিভিন্ন সময় সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার ছবি এবং ভিডিও ফুটেজ প্রদর্শন করা হত। তাছাড়াও সন্ত্রাসী হামলার সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান প্রদানসহ সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা প্রণয়ন ও প্রশিক্ষণ প্রদান করতো। উপরের ঘটনার মতো যাতে আর কোন সন্ত্রাসী ও জঙ্গী হামলার ঘটনা না ঘটে সেই লক্ষ্যে র্যাবের টহল তৎ গোয়েন্দা নজরদারী অব্যাহত থাকবে।
গ্রেফতারকৃত আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ প্রক্রিয়াধীন।