
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী (ঘোঢ়া প্রতিক) মো: নূরুজ্জামান সরকার বকুলের এজেন্টদেরকে কেন্দ্র থেকে মারধর করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নৌকা প্রতিকের প্রার্থী অ্যাডভোটে ফজলুল হকের সমর্থকদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠে।

সোমবার (১২ জুন) দুপুর পৌনে ২টার দিকে এই অভিযোগ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক (বহিষ্কৃত) ঘোঢ়া প্রতিকের প্রার্থী নূরুজ্জামান সরকার বকুল।
এ সময় তিনি ব্যক্তিগত আইডি থেকে ফেইসবুক লাইভে বলেন, উপজেলার গোহাইলকান্দি লাইটিয়া, বটতলা কেন্দ্র থেকে আমার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। মারধর করা হয়েছে চারুয়া কেন্দ্রের এজেন্টদের। কামারিয়া কেন্দ্রে আমার এজেন্টদের কাগজপত্র ছিড়ে ফেলা হয়েছে। চান্দুপুর টিলাটিয়া কেন্দ্রে নৌকার সমর্থক বাবুল চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ঘোড়া প্রতিকের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও প্রায় সব কেন্দ্রের আওয়ামীলীগের ভাড়া করা গুন্ডা বাহিনী পাহাড়া বসিয়ে এজেন্টদের ভয় দেখানো হচ্ছে। এসব বিষয়ে বার বার উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও তারা ব্যবস্থা গ্রহনে গড়িমসি করছে।
এ সময় তিনি স্থানীয় ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষন করে আরও বলেন, ইতোমধ্যে যা ভোট পড়েছে তার ৯০ ভাগ আমার পক্ষে। আপনারা কেন্দ্রে আসুন, ভোট দিয়ে দুঃশাসন ও ভোট চোরদের প্রত্যাখান করুন।
সূত্রমতে, তারাকান্দা উপজেলায় মোট ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৫৯ হাজার ৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৫০ এবং নারী ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৫৪ জন। মোট ১০৪টি কেন্দ্রে চলছে এই ভোট গ্রহন।
এদিকে সকাল ৮টা থেকে এই নির্বাচনের ভোট গ্রহন শুরু হলেও দুপুর পর্যন্ত কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল অনেকটাই নগণ্য। ফলে প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রেই ভোটার শূন্য পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, গত ১ জুন বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলা, ককটেল বিস্ফোরন এবং ১০ সমর্থক গুলিবিদ্ধ হওয়ায় ঘটনায় ভোটারদের মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। আর এ কারণেই অনেক ভোটার ভোট দিতে কেন্দ্র যাচ্ছেন না। এমন দাবি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তির।
জানা যায়, এই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের অ্যাডভোকেট ফজলুল হক, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুজ্জামান সরকার বকুল, জাতীয় পার্টির প্রার্থী এম.এ মাসুদ তালুকদার, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম মন্ডল। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে দু’জন লড়ছেন।
এদিকে নির্বাচনকে নির্বিঘœ করতে প্রতিটি কেন্দ্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ৮জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং একজন জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে র্যাব, পুলিশ, বিবিজি ও আনসার সদস্যরা দ্বায়িত্ব পালন করছেন।
এবিষয়ে তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, সব কেন্দ্রেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তারপরও ৩৬টি কেন্দ্রকে গুরুৃত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আশা করছি কোন ধরনের বিশৃংখলা ছাড়াই ভোট গ্রহন সম্পুন্ন হবে।