
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে গাঁওকান্দিয়া গ্রামের নিজ দখলীয় ভুমিতে নির্মিত ঘর সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ভেঙে ফেলার চেষ্টা’র অভিযোগ উঠেছে ওই গ্রামের বিশ্বজিত(৪৮)গংদের বিরুদ্ধে। সোমবার(২৩ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে গাঁওকান্দিয়া বাজারস্থ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি মিমাংসার চেষ্টায় স্থানীয় কতক ব্যক্তি এগিয়ে আসলে ওই সন্ত্রাসী বাহিনীর লোকজন তাদেরকে মারধর করতে চেষ্টা চালান। পরে স্থানীয়রা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন আনতে থানা পুলিশকে অবহিত করেণ। ভুক্তভোগী দুর্গাপুর পৌরসদর এলাকার মুজিবনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজাহান মিয়া। দুর্গাপুর পৌর সদরে চরমোক্তারপাড়া এলাকায় স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করেণ। তিনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে উপস্থিত সাংবাদিকদের জমির ওপর নির্মিত ঘর ভাঙ্গা চেষ্টার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন। শাহজাহান মিয়া গাঁওকান্দিয়া গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাহজাহান মিয়া একজন স্কুলশিক্ষক। তিনি গাঁওকান্দিয়া মৌজাতে বিআরএস দাগ ৩০৫০,আরএস ২১৮৮,দলিল নং-৬৬০৪, বিআরএস দাগ ২৭৮২, আরএস দাগ ২১৮৭ চৌহদ্দী ভূক্ত দলিল নং ৭৮২৭ এবং বিআরএস ২৭৮২, আরএস ২১৮৭/২১৮৮ চৌহদ্দীভুক্ত দলিল নং ১৩৬৯ দলিল মূল ৪১ শতাংশ ভূমি ক্রয়সূত্রে মালিক হন। ওই ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে ১২টি কক্ষ বিশিষ্ট একটি হাফ বিল্ডিং ঘর নির্মিত রয়েছে। ৪১ শতাংশ ভুমি হতে সহোদর বড় ভাই আবু শাহানের কাছে গত বছর জুলাই মাসে ৪শতাংশ ভুমি বিক্রি করেণ শাহাজাহান মিয়া। ওই ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে আবু শাহান হাফ বিল্ডিং নির্মাণ করে দোকান পরিচালনা করে আসছেন। ওই ৪১ শতাংশ ভুমি একবার বিক্রি করার পর পুনরায় বিশ্বজিত গংরা বিআর এস/এস দাগ মূলে বিক্রিত জমি অন্যের কাছে বিক্রি করে দেয়ার পায়তারার খরবটি শুনে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এর গাম্য আদালতে চলতি বছরের ২ জুলাই একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করি। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউপি চেয়ারম্যান ৩টি নোটিশ জারি করে। একটি নোটিশে হাজির হয়। অন্য দুটি নোটিশে হাজির হননি বিশ^জিত গংরা। এক পর্যায়ে অভিযুক্ত ভুমির শাহজাহানের দখলে থাকায় ওই ৩৭ শতাংশ ভুমি তার বলে প্রতিয়মান হয় বলে সত্যতা নিশ্চিত করে স্মারক নং গাঁও/ই/২০১৩/২৫ মূলে একটি প্রত্যয়ন দাখিল করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান।
ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক শাহজাহান মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি শিক্ষকতা করি। বাবার রেখে যাওয়া সম্পতি অন্যেরা চাষাবাদ করে থাকে। আমি পৌর শহরের বসবাস করি। বিশ্বজিত গংরা আমাদের প্রতিবেশী। আমার পিতার সম্পতির সাথে তাঁদের সম্পত্তির বিআরএস রেকর্ড ভুক্ত হয় একসাথে। এ দুর্বলতার সুযোগে বিশ্বজিতের স্ত্রী সড়ক দূর্ঘটনায় ডান হাত ও পুরো শরীর ক্ষত হয়ে পড়ে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বিআরএস ২৭৮২,আরএস ২১৮৭/২১৮৮ ছৌহুদ্দীভুক্ত জমিটি ২০১৮ সালের ২০ মার্চ ১৩৬৯ নং দলিল মূলে বিক্রি করে দেন। প্রায় ৫ বছর পর ওই দলিলটি সংশোধনী মামলা দুর্গাপুর আদালতে দাখিল করেন বিশ্বজিত গংরা। মামলাকৃত জায়গাটি আমার দখলে রয়েছে। একটি হয়রানি মূলক মামলা দিয়ে অযথা সময়ক্ষেপন করছে বলেও তিনি জানান। এমনকি বাড়ির জায়গাটি বিক্র করার প্রক্রিয়াও ছিল বলে তিনি অবহিত করেন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রধান শিক্ষক শাহজাহান ও বিশ্বজিতের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। বিষয়টি মিমাংসার জন্য গ্রাম্য আদালতের মাধ্যমে উভয় পক্ষকে নোটিশ করেছি। প্রথমবার নোটিশের জরাবের কোন উত্তর দিতে ব্যর্থ হন বিশ্বজিত। পরে আসবে বলে আর আসেননি।
দুর্গাপুর থানার ওসি উত্তম চন্দ্র দেব জানান, গতরাতে বিশ্বজিত বাদী হয়ে জমি দখলের একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত চলমান রয়েছে। পরস্পর জানা গেছে,যেহেতু জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। সেহেতু এই নিয়ে থানা পুলিশের হস্তক্ষেপ করা কোনভাবেই আইনসিদ্ধ নয়। তবে শাহজাহান মাষ্টার একজন স্কুল শিক্ষক। উভয় পক্ষকে ডেকে কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে একটি সামাধানে যাওয়া যায়কিনা। শান্তি শৃংখলা রক্ষার্থে উভয় পক্ষকে নোটিশ করা হবে।