
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পৌর শহরে প্রতি বছরের ন্যায় শ্রী শ্রী কামাখ্যা মাতার বাৎসরিক বড় পূজা অনুষ্ঠিত।
১১মে শনিবার উপজেলার পৌর শহরের জেলখানা রোড কামাখ্যা মন্দিরে এই পুজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রতি বছর বৈশাখ মাসের শেষ শনিবার শান্তিপূর্ণ ভাবে আনন্দঘন পরিবেশে হাজার ভক্তের উপস্থিতিতে পূজা অর্চনার মাধ্যমে এই পুজাটি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে শুরু করে দিনব্যাপী চলে সনাতন ধর্মালম্বী ব্যক্তিদের এই মিলন মেলা।
উল্লেখ্য, হিমালয় অধিপতি গিরিরাজ দক্ষ এক বৃহৎ বৈদিক যজ্ঞের আয়োজন করেন। অনাহুত দক্ষ কন্যা সতী, পিতার যজ্ঞানুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তাকে তিরস্কার করেন। তখন তাকে শুনতে হয় শিব নিন্দা। পতি নিন্দা সইতে না পেরে সতী যজ্ঞানুষ্ঠানে আত্মহুতি দেন। স্ত্রীর আত্মহুতির ফলে ক্রুদ্ধ শিব দক্ষের যজ্ঞানুষ্ঠান ধ্বংস করে সতীর দেহ দাহ না করে কাঁদে নিয়ে প্রলয় নৃত্য শুরু করেন। শিব নৃত্যের তান্ডবে পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হয়।
দেবতারা ভয়ে প্রমাদ গুনতে শুরু করেন। তখন ভগবান বিষ্ণু সুর্দশন চক্র দিয়ে সতীর দেহ খন্ড খন্ড করে ভূতলে ফেলে দিলে ক্রুদ্ধ শিব শান্ত হয়। রক্ষা পায় ধারিত্রি, সতীর দেহাংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে ভারত বর্ষের বিভিন্ন স্থানে। গড়ে উঠে ৫১টি পীঠস্থান। সতীর জননেন্দ্রিয় পতিত হয় ভারতের আসামের কামরুপ জেলার নীলাচল পর্বতে। আর সেখানেই প্রতিষ্ঠিত হয় কামরুপ কামাখ্যা মাতার মন্দির। কামরুপ কামাখ্যা মাতার মন্দিরের পূজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বলা হয় পান্ডা।
জনশ্রুতি রয়েছে এমন কোন পান্ডা বা ভক্ত স্বপ্নদৃষ্ট হয়ে সিমান্ত ঘেঁষা নালিতাবাড়ী উপজেলার পৌরশহরের জেলাখানা রোড এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন শ্রী শ্রী কামাখ্যা মাতার মন্দির। প্রায় শত বৎসর পূর্ব থেকেই এইভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে শ্রী শ্রী কামাখ্যা মাতার পূজা। কালের বিবর্তনে আজ বিশাল অনুষ্ঠানের রুপ নিয়েছে। অনুষ্ঠানটি সফল ভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকেন পুলিশ প্রশাসন ও কমিটির নেতৃবৃন্দ।