
ময়মনসিংহ নগরীর ৩২ নং ওয়ার্ড চরকালিবাড়িতে (পীরবাড়ির সড়কে) স্থানীয় সন্ত্রাসী ও তাদের ভাড়াটিয়া বাহিনীর হাতে আলতাব আলী (৬১) নামে একজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২ জনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যালে ভর্তি করেছে। অন্যরা বিভিন্ন জায়গা চিকিৎসা নিয়েছে। আহতরা হলো, মাইন উদ্দিন মানু, সজিব, রাজিয়া, বাবু ও মল্লিক।
এলাকাবাসী জানান, চরকালিবাড়ি ( শম্ভুগঞ্জ টু পীরবাড়ি রোড) সন্ত্রাসী রাসেল বাহিনীর সাথে মাইন উদ্দিন মানুর কয়েকদিন আগে চা খাওয়া নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর পরে মঙ্গলবার রাত প্রায় নয়টার দিকে আলতাব আলী পার্শ্ববর্তী মসজিদ থেকে এশার নামাজশেষে তার নিজবাড়ি ফিরছিলো। এদিকে সন্ত্রাসী রাসেল ও তার ভাড়াটিয়া বাহিনী নিয়ে, রাসেলের নেতৃত্বে হুমায়ুন, জহিরুল, রহিম, শহিদুল অস্ত্রসস্ত্র সহকারে দলবল নিয়ে মাইন উদ্দিন মানুর ভাতের হোটেলে হামলা করে। এসময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ তারা শুনতে পায়। সারা এলাকায় আতংকের সৃষ্টি হয়। মাইন উদ্দিন মানুর উপর হামলা না করা এবং হোটেলের ক্ষতি না করতে বয়োবৃদ্ধ আলতাব আলী বাধানিষেধ করে। এতে রাসেল বাহিনীর রাসেল সহ চক্রটি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে মারাত্মক আহত করে। একইসাথে সন্ত্রাসীরা মাইন উদ্দিন মানু, সজিব, রাজিয়া, বাবু ও মল্লিককে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে মারাত্মক আহত করে। সন্ত্রাসীদের একাংশ ময়মনসিংহ শহরের দিকে আসে অপর অংশ ময়লা ফেলার দিকে চলে যায়। পরে আহতদেরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলতাব আলী মারা যান। আলতাব আলীর মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এতে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হতে শুরু করলে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আশিক বাদি হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। যার নং ৬৩, তারিখ ২২/০৫/২৪।
কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করি। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আশিক বাদি হয়ে মামলা করেন। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদোর গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। আশা করছি অতি অল্প সময়ের মধ্যে আসামীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।