
ঈদ ঘিরে ময়মনসিংহ নগরীর অধিকাংশ মানুষ বাসাবাড়ী ছাড়তে শুরু করেছে। এমনিতেই মশার যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ নগরবাসী। রাস্তায় জমে থাকা পানি আর আবর্জনা হয়ে উঠবে মশার অভয়ারণ্য,নগরবাসীর জন্য ভয়াবহ ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নগরীর ৩৩ টি ওয়ার্ডের মশার যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, মশা বাহিত রোগে অনেকে আক্রান্ত,শিশু থেকে সাধারন মানুষ। এরছাড়া অনেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ময়মনসিংহের স্বাস্থ্য বিভাগ মশক নিধনে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখাও।
তাই সিটি করপোরেশনের বাড়তি নজরদারি আর ফেরার পর প্রত্যেকের ব্যক্তিগত সচেতনতাই হতে পারে একমাত্র সমাধান, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
সকাল থেকে রাত, দোকানে দোকানে ও বাসাবাড়িতে বিরামহীন জ্বলছে মশার কয়েল তবু মশার কামড় থেকে নিস্তার নেই। বাসা কিংবা বাইরে সবখানেই যেন মশার রাজত্ব।
এই চিত্র ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকার ৩৩ টি ওয়ার্ডেই বিরাজ করছে। যত্রতত্র ময়লা, নর্দমায় জমে থাকা পচা পানি, রাস্তা এবং খালের সংস্কার চলমান থাকায় এ এলাকায় মশার উপদ্রব মৌসুমের আগেই বেড়েছে কয়েকগুণ। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঝাঁকে ঝাঁকে মশা বাড়লেও নিধনে নেই দৃশ্যমান পদক্ষেপ।
নগরীর বাসিন্দারা জানান, রাতে মশা বাড়ে, সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এখন দিনেও মশা বাড়ছে। মশার উপদ্রবের কারণে তারা অতিষ্ঠ, দোকানদারদের ঠিকমতো কাজ করতেও হচ্ছে সমস্যা।
সিটি করপোরেশনের শহর তলীতেও চিত্র একই রকম। শহরের খাগডহর, বলাশপুর, ভাটী কাশর, বাঘমারা, নয়াপাড়া, চরপাড়া, নওমহল, আকুয়া, সানকিপাড়া সব জায়গাতেই মশার অসহনীয় উপদ্রব রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নালা-নর্দমা, ড্রেন ময়লা আবর্জনায় বন্ধ হয়ে গেছে। সিটি করপোরেশনের অবহেলা আর সকল স্থানে মশার ওষুধ না দেয়ায় মশার বংশ বিস্তার বেড়েই চলেছে। ফলে এসব এলাকায় মশা এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
বাসিন্দারা জানান, মশা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য নেয়া হয়নি কোনো পদক্ষেপ। মশার কারণে তারা এলাকাবাসী ভোগান্তিতে রয়েছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
মশা নিয়ে অতিষ্ঠ নগরবাসীর ওপর ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে যুক্ত হচ্ছে ঈদের ছুটিতে ফাঁকা শহরে মশা বাড়ার আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঈদের ছুটিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজ বন্ধ থাকবে তাই এলাকাগুলো মশার অভয়ারণ্যে পরিণত হবে হবে শঙ্কায় আছেন বাসিন্দারা।।
পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা জানান, তারা ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরবেন। ১ সপ্তাহের মতো বন্ধ থাকবে তাদের কাজ।
ময়মনসিংহে এখন মশার প্রায় ৯২ শতাংশই কিউলেক্স প্রজাতির। সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে ফেব্রুয়ারিতে মশার সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে- যা চলতি মার্চ মাসে আরও বাড়বে বলে শঙ্কা করছেন কীটতত্ত্ববিদরা।