
এই সেই শাহানা খাতুন(১৪)পিতা জরুল খাঁ সাং লস্কর পাড়া,১০নং বওলা ইউপি,উপজেলা-ফুলপুর,জেলা-ময়মনসিংহ।
হাজার বছরের পুরনো ৪০কেজি ওজনে মুর্তি পেলো শাহনাজ
পার্শ্বে প্রদর্শিত প্রায় এক হাজার বছরের পুরনো ৪০কেজি ওজনের ১৩ ইঞ্চি প্রস্থ আর ৩১ইঞ্চি উচ্চতার এই কষ্টি পাথরের বিষ্ণুমূর্তিটি গত শুক্রবার তাদের বাড়ীর পাশে ঐতিহাসিক সুতারনাল দীঘির পাড়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় কুড়িয়ে পায়।
পরে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শণ হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিবেচনায় ফুলপুরের ইউএনও জেবুন নাহার শাম্মী মহোদয়ের হস্তক্ষেপে ফুলপুর থানা পুলিশ হাজার হাজার জনতার সামনে জব্দ করে নিয়ে আসে।
এ ঘটনার পর থেকে মূর্তি কুড়িয়ে পাওয়া এ কিশোরী মানসীকভাবে ভেঙে পড়েছে।মূর্তিটির আনুমানিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা শুনার পর থেকে সে অস্বাভাবিক আচরণ করছে।উল্লেখ্য,ইতিপূর্বে এই সুতারনাল দীঘিতে গুপ্তধন পেয়ে একাধিক ব্যক্তি মৃত্যু মুখে পতিত হওয়ার ইতিহাস থাকায় পিতা হত দরিদ্র জরুল খাঁ খুবই চিন্তিত এবং অজানা শঙ্কায় শঙ্কিত।
শাহানার মা রাহিলা খাতুন এ প্রতিনিধির কাছে জানতে চান,হাজার বছর মুর্তি পড়ে রইলো কেউ খবর নিলো না,যেদিন আমার মেয়ে তা কুড়িয়ে পেল তখনও তা মূল্যহীন বলে বেকু অপারেটর ফেলে দিলো।এখন সেটা কোটি টাকার সরকারী সম্পদ হলো কিন্তু আমরা তো কিছুই পাইলাম না স্যার।এ কেমন অবিচার?
শাহানা খাতুন বলেন,কাকা ঐ পুতুলটা আমার।আমি ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে দেখে তা কুড়িয়ে এনেছি।অনেকেই দেখেছে,কেউ নেয়নি।ওটা আমার পুতুল আমাকে ফিরিয়ে দিন।ও কে ছাড়া আমি বাঁচবো না স্যার।পুলিশ কে বলুন আমার জিনিস আমাকে ফিরিয়ে দিতে।না হলে কারো ক্ষতি হলে আমি জানি না।আমার পুতুল আমাকে দিয়ে দিন।
এলাকার গন্যমান্য ইউপি মেম্বার রাশিদ বলেন,মেয়েটি মূর্তিটি হারিয়ে পাগলের মতো হয়ে গেছে,তাঁকে সরকারের পক্ষ থেকে শান্তনা পুরস্কার দেওয়া প্রয়োজন।আওয়ামীলীগের ইউনিয়ন সভাপতি এবং এ দুর্লভ মূর্তির অন্যতম উদ্ধারকারী নাসিম কাজী বলেন শাহানার হক আছে এখানে,প্রশাসনের তাকে আর্থিক সহযোগীতা করা উচিৎ।
এলাকার শত শত মানুষ এ দাবীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রশাসনের প্রতি হত দরিদ্র শাহানা কে চিকিৎসার্থে প্রয়োজনীয় আর্থিক সাহায্যের আহ্বান জানান।