
ফুলবাড়ীয়ার মানুষ পরিবর্তন চায়। কেন পরিবর্তন চায়,সেটাও তারা প্রকাশ্যে বলছে। ফুলবাড়ীয়ার রাজনীতিটা একটা পরিবার কেন্দ্রিক হয়ে যাওয়ায় মানুষ ত্যক্ত বিরক্ত। এই পরিবারটি ৩০/৩৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও ফুলবাড়ীয়া বাসীর ভাগ্যের কোন পরিবর্তনতো হয়নি,বরং তাদের সমস্যা দিনদিনই বাড়ছে। সত্যি বলতে নৌকার গনজোয়ারে ফুলবাড়ীয়া ভাঁসলেও সাধারন মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি,শুধু একটি পরিবার ছাড়া।তাই এবার ঐ পরিবারের ৪/৫ জনই এমপি হবার দৌড়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। কি এমন মধু আছে যে,বাবা,ছেলে ও দুইমেয়েই নৌকার নমিনেশন চাচ্ছে?
ফুলবাড়ীয়ার সাধারন মানুষ একই পরিবারের ৪জন প্রার্থী হবার জোয়ার দেখে পরিবর্তন চাচ্ছে। ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় দীর্ঘ ২০/২৫ বছর যাবৎ রাজনীতির মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ডা: খন্দকার রফিকুল ইসলাম। তবে সবাই তাকে ডা: কে আর ইসলাম নামে একডাকে চিনে।
আপাদমস্তক একজন ভদ্র,সৎ ও নির্ভিক মানুষ হিসেবে সবাই তাকে চিনে। মানুষ তাকে পছন্দ ও করে। জাপার প্রার্থী হিসেবে উনিশ শতকের শেষ থেকে আজ পর্যন্ত তিনি মাঠেই।
২০১৮ ইং এর নির্বাচনে তাকে একপ্রকার জোর করে বসিয়ে না দিলে আজ আর পরিবর্তনের দাবী উঠতো না। সে সময় পরিস্থিতি এমন ছিল,নির্বাচন থেকে না সরে দাঁড়ালে ঝামেলায় জড়িয়ে যেতেন। কারন ভালো মানুষ, তাই ঝামেলায় না থেকে অশ্রুসজল নয়নে নেতা কর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নির্বাচন থেকে সরে আসেন। ডা: কে আর ইসলামের ফুলবাড়ীয়ার ৭ নং বাক্তা ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুরের মৌলভী বাড়ী। তার পিতার নাম মরহুম খন্দকার তমিজউদ্দিন আহমেদ,মাতার নাম মরহুম মরিয়ম খাতুন। ১৯৫২ সনের ১৫ জানুয়ারি তার জন্ম। ১৯৬৮ সনে ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে এসএসসি,১৯৭০ সনে আনন্দ মোহন কলেজ থেকে এএইচসি ও ১৯৭৫ সনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। এরপর চিকিৎসা শাস্ত্রে উচ্চ শিক্ষার জন্য অষ্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করেন। উনার শিক্ষা জীবন অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সবসময় ভাল ফলাফল করে একজন ভালো ডাক্তার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
ডা: কে আর ইসলাম একজন সজ্জন
সৎ ও মানবিক লোক হিসেবে জেলাবাসীর কাছে পরিচিত। রাজনীতি তার পেশা না নেশা। আর নেশার নেপথ্যে আছেন বেগম রওশন এরশাদ ও এরশাদের বোন বেগম মেরিনা রহমানের আগ্রহে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। এরশাদ পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত হওয়ায় তাকে সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদের উপদেষ্টা করা হয়।
রাজনীতি করার কোন ইচ্ছাই ছিলনা তার। যদি এরশাদের শাসনামলে দলেযেতে রাজি হতেন,তবে এরশাদ সাহেব তাকে মন্ত্রিত্ব দিতেন। এনিয়ে এরশাদ সাহেবের বোনের বাসায় অনেক চাপাচাপি হয়েছে। আমি সেই সব ঘটনার স্বাক্ষী। হয়তো অনেকে বিশ্বাস করবেন,আবার অনেকে বিশ্বাস করবেন না। যাক পুরোনো দিনের কথা।
গত ২০/২৫ বছরে ফুলবাড়ীয়ার এমন কোন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড বা গ্রাম নেই, যেখানে তিনি সাধারন মানুষের কাছে যাননি। ফুলবাড়ীয়ার লক্ষাধিক চক্ষু রোগীর চিকিৎসা ও ঔষধ তিনি বিনামূল্যে দিয়েছেন। সমাজের সমস্ত ভালো কাজের সাথে তার সম্পৃক্ততায় তিনি জড়িয়ে আছেন। অলসতা তাকে কোনদিন তার কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।
জাতীয় পার্টির হয়ে ১৯৯৬,২০০১ ও
২০১৮ সনে নির্বাচনে অংশ নেন। দলীয় কাঠামো শক্ত না থাকায় ১৯৯৬ ও ২০০১ সনে আশানুরূপ সাফল্য আসেনি। তবে ২০১৮ সনের নির্বাচনে
তাঁর অবস্থা এমন ভালো ছিল, সেসময় তাকে জোরপূর্বক বসিয়ে দেয়া হয়। যেদিন তিনি নির্বাচন থেকে সরে আসার ঘোষনা দেন ভালুকজান বাজারের দলীয় কার্যালয়ে,সেদিন নেতা কর্মী সমর্থকরা চিৎকার করে
কাঁদতে থাকেন। সেদিন সেই অফিস থেকে আমাদের ফিরে আসতে জনতার বাঁধা পেরোতে অনেক বেগ পেতে হয়।ঐ নির্বাচন থেকে না সরে আসলে, আজকে বোধহয় ডা: সাহেবকে পাওয়া যেতো না। যাকআগামী ডিসেম্বর/ জানুয়ারীতে হচ্ছে সংসদের দ্বাদশ নির্বাচন।এবার আর
ফিরে আসতে হবে না। মাঝি পরিবর্তনের যে দাবি ফুলবাড়ীয়াবাসীর তা পুরন হতে যাচ্ছে নি:সন্দেহে। ইতিমধ্যে মাঠও তিনি গুছিয়ে এনেছেন। সর্বত্রই এক কথা এবার আমরা ডাক্তার কে আর ইসলামকে চাই।
ডা: কে আর ইসলাম ফুলবাড়ীয়া উপজেলা জাপার সভাপতি, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা জাপার সাধারন সম্পাদক, জাপা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি সদস্য ছিলেন।
এছাড়াও বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির প্রাক্তন সাধারন সম্পাদক ও সভাপতি ছাড়াও আজীবন সদস্য।
বিএমএ ময়মনসিংহ শাখার প্রাক্তন সহ সভাপতি ও আজীবন সদস।
বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল প্যাকটিশনারস এসোসিয়েশনের
প্রাক্তন সাধারন সম্পাদক ও সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়াও তিনি ডক্টরস ক্লাব,বিএমএ
ডক্টরস ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট,ডেল্টা হেলথ কেয়ারের আজীবন সদস।
ইউনাইটেড চক্ষু হাসপাতালের ডিরেক্টর,আমেরিকার মেডিকের সোসাইটির আজীবন সদস। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনর প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক ছিলেন। বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি,রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, মুসলিম ইনিস্টিউট, শিল্পকলা একাডেমি, এপেক্স ক্লাব,লায়ন্স ক্লাব,মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা,
জাতীয় সাপ্তাহিক ময়মনসিংহ সংবাদের প্রাক্তন প্রকাশক ও সম্পাদক ছিলেন। দৈনিক অদম্য বাংলার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি।
এসব ছাড়াও তিনি আরো অন্তত ৫০ টি প্রতষ্ঠানের সাথে জড়িয়ে আছেন।
ডা: কে আর ইসলাম যে একজন ভালো মানুষ তার প্রমান ২০১৩-১৪ ও
২০২১-২২ সনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে সেরা করদাতা নির্বাচিত হন।
সামনের ডিসেম্বর/ জানুয়ারী মাসে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সব প্রার্থীরাই মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। কে হবেন আগামী দিনে ফুলবাড়ীয়ায় কান্ডারী- সেটা সময়েই বলে দেবে।তবে এবার ফুলবাড়ীয়ায় মহাজোটের প্রার্থী যে ডা : কে আর ইসলাম, সেটা হলে আশ্চর্য হবার কিছু নেই।