1. admin@mymensingherkhobor.com : admin :
  2. amin@mymensingherkhobor.com : Amin :
  3. info@mymensingherkhobor.com : Aziz :
  4. editor@mymensingherkhobor.com : Editor :
  5. info.popularhostbd@gmail.com : PopularHostBD :
ক্ষুধার যন্ত্রণায় বাড়ি থেকে বের হয়ে ৫২ বছর পর মায়ের কাছে ফিরলেন শমসের - দৈনিক ময়মনসিংহের খবর
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ময়মনসিংহের পরানগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষে, নারীসহ আহত অন্তত ৪ ফুলপুরকে সকল পেশাশ্রেণীর মানুষের বাসযোগ্য উপজেলা হিসাবে গড়তে চান সিরাজুম মুনীর রিফাত ময়মনসিংহে ভয় ও অপরাধ: চাঁদাবাজি–লুটপাট –সশস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’ পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধে হাইকোর্টের রুল শাওন হত্যায় অধিকতর তদন্তেও ফাসাতে পারেনি আমিনুল হক শামীম ও সাফাকে ময়মনসিংহ মহানগর প্রেসক্লাবে আন্তরিক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঈদের আগে যানজটের চিন্তা, সমাধানে জেলা প্রশাসকের টেবিলে দীর্ঘ বৈঠক মমেক হাসপাতালে রোগীদের সেবার মানউন্নয়ন নিশ্চিত করার আহবান -ওয়াহাব আকন্দ এমপি মিঠামইনে উপজেলা চত্বরে বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ করলেন এমপি ফজলুর রহমান ময়মনসিংহে ক্লুলেস হত্যা মামলা ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ৩ জন গ্রেফতারঃ আলামত উদ্ধার

ক্ষুধার যন্ত্রণায় বাড়ি থেকে বের হয়ে ৫২ বছর পর মায়ের কাছে ফিরলেন শমসের

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৩
  • ২৬৩১ বার পড়া হয়েছে

জেলা প্রতিনিধি, নীলফামারী:- ঠিকমতো খাবার না জোটায় ক্ষুধার যন্ত্রণায় ১০ বছর বয়সে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান শমসের হোসেন। এরপর কেটে যায় তার জীবনের ৫২ বছর। দেশের বিভিন্ন এলাকায় নানা ধরনের কাজ করে দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফিরলেন তিনি। শনিবার(২২জুলাই) বাড়িতে ফিরে দেখা পেলেন মা সবেজান বেগমের। মা-ছেলের সাক্ষাতের মুহূর্ত কাঁদিয়েছে উপস্থিত সবাইকে।

শমসের নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মণপুর-কদমতলীর বাড়াইশালপাড়া গ্রামের বজর মামুদের ছেলে। তার বাবা ২০ বছর আগে মারা গেছেন।

শমসেরের পরিবারের লোকজন জানান, শমসেরের বাবা ছিলেন দিনমজুর। আট ভাই ও দুই বোনের মধ্যে শমসের বড়। অর্থের অভাবে একবেলা খেয়ে তো আরেকবেলা না খেয়ে থাকতে হতো তাদের। অভাবের তাড়নায় খাবার না পেয়ে ৫২ বছর আগে বাড়ি থেকে রাগ করে বের হন ১০ বছরের শমসের। এরপর দিনাজপুরের পার্বতীপুরে একটি হোটেলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন দুই বছর। সেখান থেকে চলে যান পুরোনো ঢাকার কলতাবাজার এলাকায়। সেখানে গিয়ে কয়েক বছর হোটেলে কাজ করেছেন তিনি। পরবর্তীকালে রিকশা চালান। থাকতেন রিকশার গ্যারেজে।

দুই বছর আগে শমসেরের ছোট ভাই মোতালেব হোসেন ঢাকায় গিয়ে রিকশা চালানো শুরু করেন। সম্প্রতি মোতালেবের সঙ্গে পুরোনো ঢাকায় দেখা হয় শমসেরের। প্রথমে চিনতে না পারলেও কথাবার্তার একপর্যায় একে-অপরের মধ্যে পরিচয় দেন। এ সময় নিশ্চিত হন তারা সম্পর্কে আপন ভাই। পরে মোতালেব বাড়িতে ভাই শমসেরকে ফিরিয়ে আনেন বলে জানান পরিবারের লোকজন।

পরিবার খুঁজে পেয়ে শমসের হোসেন বলেন, ক্ষুধার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাই। ট্রেনে করে পার্বতীপুর নামি। এরপর মা-বাবার নাম বলতে পারলেও ঠিকানা ঠিকভাবে বলতে পারছিলাম না। তাই আর বাড়ি ফেরা হয়নি। সেখানে কিছুদিন হোটেলে কাজ করি। পরে হোটেলের আরেক কর্মচারীর সঙ্গে ঢাকায় যাই। এত দিন সেখানেই ছিলাম।

দীর্ঘদিন পর নিজের ইচ্ছে পূর্ণ হওয়ায় আনন্দিত বলে জানান শমসের। তিনি বলেন, আমার পরিবারের সঙ্গে দেখা হয়েছে। ভেবেছিলাম মা-বাবা কেউই বেঁচে নেই। এত দিন পরে মায়ের সঙ্গে দেখা। জীবনের সবচেয়ে খুশির মুহূর্ত এটি। তবে কষ্ট হচ্ছে বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ হলো না!

তিনি বিয়ে করলেও স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। বর্তমানে তার কোনো সন্তান-স্ত্রী নেই বলে জানান শমসের।

শমসেরের মা সবেজান বেগম বলেন, অনেক খোঁজাখুঁজির পর ছেলের সন্ধান না পেয়ে দীর্ঘ ৫২ বছর ধরে চোখের জল ফেলেছি। কিন্তু এত দিন পর হলেও সৃষ্টিকর্তা ছেলেকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন। আমার যে কত আনন্দ হচ্ছে তা বোঝাতে পারব না।

বাঙ্গালীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাজাদা সরকার বলেন, সবেজান বেগমকে অনেক দিন ধরেই চিনি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি প্রায়ই পরিষদে এসে জানতে চাইতেন কেউ তার ছেলের কোনো খোঁজ দিয়েছেন কি না। এত দিন পর হলেও মা তার ছেলেকে ফিরে পেয়েছেন। এতে আমরাও আনন্দিত।

তিনি আরও বলেন, সবেজান বেগমের পরিবার এতটাই দরিদ্র যে পরিবারের আট সদস্যের থাকার জন্য নিজস্ব কোনো বাড়িঘর ছিল না। পরে তাদের থাকার জন্য বাড়াইশালপাড়ার আবাসনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের দুটি ঘর তাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

সংবাদ টি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved
Design BY POPULAR HOST BD