
ময়মনসিংহ সদরের ফকিরাকান্দা বয়রা পশ্চিমপাড়া সাকিনের ফখরুল ইসলাম নামীয় এক ব্যক্তিকে স্ত্রী হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করিয়া দন্ডবিধির ৩০৩ ধারায় মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। মঙ্গলবার ময়মনসিংহের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মমতাজ পারভীন এ আদেশ দেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, আসামী ফখরুল ২০১২ সালের ২৬ মার্চ বিকাল ৩টায় তার বসতঘরে ঘুমিয়ে থাকা স্ত্রী শিরিনাজ বেগমকে বটি দাও দিয়া জবাই করে হত্যা করে। এর আগে ২০০১ সালের ১৬ আগস্ট তার ২য় স্ত্রী একজন বিহারী নারী কানিজ ওরফে তানিয়াকে হত্যার দায়ে ১৩/০৯/২০০৩ তারিখ তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। উক্ত মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে ১ম স্ত্রী শিরিনাজকে ঘুমন্ত অবস্থায় জবাই করে হত্যা করে।
অত্র মামলা চলাকালে আসামী নিজেকে অপ্রকৃতিস্থ দাবী করিলে আদালতের নির্দেশে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ড বিভিন্ন পরিক্ষা-নীরিক্ষা শেষে তাকে সুস্থ্য ঘোষণা করে।
একইসঙ্গে ২০০১ সালের মামলার ঘটনার সময় সে অপ্রকৃতিস্থ ছিল মর্মে দাবী করিলে পাবনা মানসিক হাসপাতাল থেকে কাগজপত্র সংগ্রহ করে আদালত অবগত হয় যে, ওই সময়কালেও সে স্বাভাবিক ছিল বিধায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ভর্তি না করে ফেরত পাঠায়।
যেহেতু, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত অবস্থায় জামিনে মুক্তি পেয়ে আসামী ২য় বার একই ধরনের অপরাধ সংঘটিত করেছে, তাই ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩০৩ ধারায় নির্ধারিত বিধান অনুসারে একমাত্র শাস্তি মৃত্যদণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন, পাবলিক প্রসিকিউটর বীর মুক্তিযোদ্ধা কবীর উদ্দিন ভূঁইয়া। আসামিপক্ষে রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়োজিত আইনজীবী ছিলেন মোকাম্মেল হক শাকিল।