
১৮৩০ সালে জন্ম শ্রীকৃষ্ণের আচার্যের দ্বিতীয় পুত্র হরিনাম আচার্যের তৃতীয় পুরুষ হলেন রামকিশাের। তিনি প্রচণ্ড তেজস্বী ও শক্তিমত্তার অধিকারী ছিলেন। সর্বসাধারণের সুবিধার বিষয়টি তিনি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতেন। বর্তমানে মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ি হিসেবে যে অংশটুকু রয়েছে সেখানেই হরিনাম আচার্যের বংশধর অর্থাৎ রামকিশাের বসবাস করতেন এবং তার অংশের জমিদারী পরিচালনা করতেন।
শ্রীকৃষ্ণ আচার্য তৃতীয় পুত্র, বিষ্ণুরাম আচার্যের চতুর্থ পুরুষ দুর্গাদাস বাবুর তৈরি দেওয়ালে, সর্বসাধারণের যাতায়াতের জন্য রাস্তা বন্ধ করে দিলে রামকিশাের তা ভেঙ্গে ফেলে। যার ফলে দুর্গা দাস এর সাথে রাম কিশােরের মনােমালিন্য ছিল।
তৎকালে মুক্তাগাছার জমিদারগণ এমন এক বৈরীতায় অবস্থান করতেন যে এক পর্যায়ে তারা একে অপরের মুখ দেখাদেখি করতেন না। তারা ধর্মীয় উৎসব আলাদা আলাদা ভাবে উদযাপন করতেন। তাই সরকার ফরমান জারি করলেন যে, রাজরাজেশ্বরী মন্দিরে যখন জমিদাররা পশু বলি দিবেন তখন সরকারি নাজির উপস্থিত থাকবেন। সে আমলে নাজির হলেন সরকারের একজন বিশেষ আমলা রাজরাজেশ্বরী মন্দিরে বলির দিন হঠাৎ বিবাদ শুরু হলাে কে আগে অর্থাৎ কোন জমিদার আগে বলি দেবেন তা নিয়ে। হুট করেই সরকারি নাজির, বিষ্ণুরাম আচার্যের বংশধরদের দায়িত্বে থাকা জমিদারির পক্ষে প্রথম বলি হবে বলে ঘােষণা করেন নাজির। এতে উপস্থিত থাকা রামকিশােরের আদেশে শেষ পর্যন্ত সেই নাজিরকেই বলি দেওয়া হয়েছিল!
রাম কিশাের ১৮৬০ সালে বিদ্যাময়ী দেবীকে বিয়ে করেন। তার ছােট বড় সব সন্তান অল্প বয়সে মারা যায় বেঁচে থাকেন শুধু জগৎ কিশাের। আসলে রামকিশাের ছিল হরিনাম আচার্যের দ্বিতীয় পুরুষ গৌরিকিশাের আচার্য ও চন্দ্রাবলী দেবীর দত্তক পুত্র। রামকিশাের এর আসল বাবা ছিল গগন চৌধুরী। ফলে রামকিশাের গগন চৌধুরীরও সম্পত্তি লাভ করে। কিন্তু নিকটাত্মীয়রা অভিযােগ করলাে রামকিশাের অসিদ্ধ। রামকৃষ্ণ ছিল প্রচন্ড জেদী এবং একরােখা মানুষ। তিনি প্রতিপক্ষের সাথে মামলা চালিয়ে যান একা ও নিজ বুদ্ধিতে। কিন্তু মৃত্যুর আগে মামলার ফলাফল দেখে যেতে পারেননি!
ছবি: মুক্তাগাছার জমিদার বাড়ি
ইন্টারনেট থেকে নেয়া!