
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় চলছে চুলাই মদের রমরমা ব্যবসা। উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের পূর্ব সানন্দখিলা গ্রামের মোছার সম্প্রদায়ের পরেশ বাউল ও কইতরী রবিদাসের বাড়িতে চলছে দেশি চুলাই মদের রমরমা ব্যবসা। যেখানে দিনে রাতে সব সময় মদ বিক্রি করা হয়। একই সাথে আশে পাশের কয়েক গ্রামের মাদক সেবীদের নিরাপদ আস্তানাও বটে। দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে মাদ তৈরী ও বিক্রি করে আসছেন পরেশ বাউল ও কয়তরী রবি দাস সহ কয়েকটি পরিবার। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, দিনের বেলায় বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন এসে বোতল ভরে মদ কিনে নিয়ে যায়।
ঘটনা অনুসন্ধানে সন্ধ্যার পর পরেশ বাউলের বাড়িতে যাওয়ার পথে বাড়ির পাশে প্রতিবেদকের সাথে দেখা হয় তার সাথে। পরেশ বাউলের সাথে কথা হয় ক্রেতা পরিচয়ে। তিনি জানান, আজকে মদ শেষ হয়ে গেছে আগামীকাল আইসেন। আমি আপনাদের জন্য মদ রাখবো। তার কথা মতো পরেরদিন আবার সন্ধ্যার পর পরেশ বাউলের বাড়িতে। বাড়ির ভিতরে গিয়ে দেখা যায় ৭-৮ জন লোক উঠানে বসে চুলাইচুলা মদ পান করছে।তাদের একজন তানজিল। কথা হয় তানজিলের সাথে তিনি বলেন, আমি এখানে নিয়মিত আসি। সকাল বিকাল এখানে এসে খেয়ে যায়। তার ভাষ্য ১০-১২ বছর ধরে এখানে মদ তৈরী করা এবং বিক্রি করা হয়। বিবরণ দেন বাংলা মদ তৈরী সর্ম্পকেও।এরই মধ্যে প্রতিবেদকের কাছে এক বোতল মদও বিক্রি করেন পরেশ বাউল। এসময় তিনি বলেন, আরো লাগলে যেকোন সময়ই আইসেন। সমস্যা নাই নিতে পারবেন। মদ পান করে মাদকসেবীরা জড়িয়ে পড়ছে নানা ধরনের অপরাধে।দীর্ঘদিন ধরে মাদ কেনা বেচা ও মদ পানের আড্ডা বসলেও প্রশাসনের তেমন কোন তৎপরতা দেখা যায় নি। ফলে নষ্ট হচ্ছে যুব সমাজ। সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে মাদকের বিস্তার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মোছার বাড়ির লোকজন মদের ব্যবসা করে আসছে। সহজলভ্য ও কম দামে পাওয়ায় আশে পাশের কয়েক গ্রামের লোকজন সহজেই মাদকে আসক্ত হচ্ছে।গ্রাম পুলিশ উসমান আলী ঘটনার সততা স্বীকার করে বলেন, মাঝে কয়েকদিন মদ কেনা বেচা বন্ধ থাকলেও এখন নিয়মিতই চলছে।সাংবাদিক পরিচয়ে পরেশ বাউলের কাছে মদ বিক্রি ও প্রকাশ্যে মদের আড্ডা সর্ম্পকে জানতে চাইলে প্রথমে অস্বীকার করে। পরে প্রতিবেদকের কাছে মদ বিক্রি কথা বললে তিনি বলেন, তাহলে আমার কিছু বলার নেই।কইতরী রবিদাস বলেন, মদ বিক্রির ঘটনা মিথ্যা। আশেপাশের লোকজন ষড়যন্ত্র করছে।
বাঘবেড় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইয়াকুব আলী জানান, শুনেছি তারা নিজেরা মদ পান করে। বিক্রির বিষয়টি আমার জানা নেই।
এব্যাপারে ধোবাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ টিপু সুলতান বলেন, আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো