
‘‘দেহকে সুস্থ,সবল,সুগঠিত ও রোগ প্রতিরোধে কার্যকর রাখতে নিয়মিত সঠিক পরিমাণে ভালমানের ভালমানের ভোজ্য তেল গ্রহনের কোন বিকল্প নেই’’ মন্তব্য করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মনিটরিং ও বাস্তবায়ন সরেজমিন উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আশরাফ উদ্দিন বলেন বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকারের নানা মুখী উৎপাদন মূলক পদক্ষেপ গ্রহনের ফলে কৃষি খাতের ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক উপাদান কর্মসংস্থান সৃজন,দারিদ্র বিমোচন মানব সম্পদ উন্নয়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখে চলছে। কৃষি নির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতি,টেকসই কৃষি উন্নয়ন,খাদ্য নিরাপত্তা বিধান ও কৃষকের দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থার উন্নয়নের ক্ষেত্রে কৃষকদের আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রশিক্ষিত করার কোন বিকল্প নেই ।
মানসন্মত ও ভাল বীজ ছাড়া ফসলের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়, তাই ভাল বীজ উৎপাদনের জন্য সরকার কৃষকদের উৎসাহিত করছে।
দেশের ধান উৎপাদন পর্যাপ্ত হলেও বিশ্বের অন্যান্য ধান উৎপাদন কারী চীন,ভিয়েতনামের ধানের হেক্টর প্রতি গড় ফলনের তুলনায় আমাদের দেশে হেক্টর প্রতি গড় ফলন কম। বিশ্বে বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে তৃতীয়স্থানে রয়েছে। দেশে প্রতি বছর জনসংখ্য বাড়ছে,বর্ধিত জনসংখ্যারজন্য চাহিদা মিটাতে ধান ও গমের ফলন বাড়ানো অতীব জরুরী। সীমিত জমিতে আমন ধানের আবাদ বাড়ানো,লাগসই শস্য বিন্যাসে আমন ধান অন্তভুক্ত করে শস্য নিবিড়িতা ওফলন বৃদ্ধিতে সমন্বিত কার্যকর ভুমিকা রাখতে হবে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত,আমন ধান ও সরিষার আবাদ বৃদ্ধি এবং শস্য নিবিড়তা ওফলন বৃদ্ধি এবং উৎপাদন বাড়াতে ধান বিজ্ঞানী,কৃষিবিদ, কৃষক ও কৃষি সম্প্রসারণবিদদের আরো কার্যকরী ভুমিকা পালন করতে হবে। বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আয়োজনে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর ময়মনসিংহের ব্যবস্থাপনায় রবিবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েরে সৈয়দ নজরুল ইসলাম অডিটরিয়ামে রোপা আমন ও সরিষার আবাদ বৃদ্ধিতে করণীয় শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মনিটরিং ও বাস্তবায়ন সরেজমিন উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আশরাফ উদ্দিন এসব কথা বলেন।
দিন ব্যাপী কর্মশালায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ সুশান্ত কুমার প্রামানিকের সভাপতিত্বে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ মতিউজ্জামান লাভলু, বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান,অতিরিক্ত পরিচালক কার্যালয়ের উপপরিচালক সালমা বেগম ও বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ মোস্তফা কামাল বক্তব্য রাখেন। কর্মশালায় বাংলাদেশ কৃষিবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড.মোহাম্মদ এম আর জাহাঙ্গীর কী নোট উপস্থাপন করেন।
বক্তারা বলেন বর্তমানে দেশ দানাজাতীয় খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করলেও তেল জাতীয় ফসল উৎপাদনে অনেকটাই পিছিয়ে আছে,যা টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট এর পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনের যে লক্ষমাত্রা সেটি অর্জনের একটি প্রধান অন্তরায়। গুনগত মানসম্পন্ন পরিমিত ভোজ্যতেল খাওয়া ব্যতিরেকে পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জন সম্ভব নয়, কারণ ভোজ্য তেলে রয়েছে অত্যাবশকীয় ফ্যাটি এসিড যা মানব দেহে তৈরী হয় না,এই ঘাটতি পূরণে ভোজ্যতেল সহায়ক ভূমিকা পালন করে । বর্তমানে দেশে ব্যবহৃত ভোজ্যতেলের প্রায় ৯০ভাগ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এ আমদানি নির্ভরতার ফলে একদিকে বিদেশে প্রচুর অর্থ চলে যাচ্ছে,তেমনি আমদানি ও বিপননে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা পণ্যটির বাজারকে প্রায়ই অস্থিতিশীল করছে।
বক্তারা আরো বলেন বর্ধিত জনসংখ্যার চাপে দেশের আবাদ যোগ্য জমির পরিমাণ প্রতি বছর কমে যাচ্ছে,আবাদী জমির আনুভূমিক বৃদ্ধির সুযোগ না থাকায় ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণে তেল জাতীয় ফসল উৎপাদন বাড়াতে হবে। দেশের এক ফসলি জমিকে দুই ফসলি,দুই ফসলি জমিকে তিন ফসলি ও তিন ফসলি জমিকে চার ফসলের আওতায় এনে খাদ্য উৎপাদন বহুলাংশে বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে দেশের অধিকাংশ জমি বোরো ধান চাষের আওতায় চলে গেছে,ফলে দিনদিন আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছ। তাই জমির পরিমাণ বাড়িয়ে ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ খুবই কম তাই একমাত্র ফসল বিন্যাসে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।দেশের জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মিটাতে ফসলের উৎপাদন বাড়াতে হবে এবং উৎপাদন বাড়ানো ও ব্যবহার বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে,রোপা আমন বৃদ্ধি এবং সরিষার আবাদ বাড়াতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভুমিকা পালন করতে হবে। দিনব্যাপী আঞ্চলিক কর্মশালায় বক্তারা আরো বলেন স্বল্পমেয়াদী রোপা আমন ও স্বল্পমেয়াদী উচ্চ ফলনশীল সরিষা চাষ করে একই জমিতে অনায়াশেই বছরে চারটি ফসল চাষ করে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।
রোপা আমন ও সরিষার আবাদ বৃদ্ধিতে করণীয় দিনব্যাপী কর্মশালায় বাংলাদেশ কৃষিবিদ্যালয়ের শিক্ষক,ময়মনসিংহ জেলার কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক,উপজেলা কৃষি অফিসার,অতিরিক্ত কৃষি অফিসার,উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা,বিনা ও কৃষকসহ কৃষি বিভাগের শতাধিক প্রতিনিধি অংশ গ্রহন করেন।