
আর মাত্র ১০ দিন। তারপরই সবাই জেনে যাবেন কে হলেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র। তবে এই ১০ দিনে প্রচার প্রচারনা আর আশ্বাস-প্রতিশ্রুতিতে সাধারন ভোটাররা নানা হিসেব কষছেন। যারা এসব আশ্বাস দিচ্ছেন, নির্বাচনের পর যে তারাই এসব ভুলে যাবেন,সেতো সবারই জানা কথা। তারপরও আমরা যারা আমজনতা, তারা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবো।
এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে আ’লীগের ৪ জন সহ মোট প্রার্থী ৫ জন।আর ৩৩ টি ওয়ার্ডে ১৪৯ জন কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনে ৫৯ জন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ উৎসবমুখর আছে। প্রার্থীদের মাঝে ছিটেফোটা উত্তাপ উত্তেজনা নেই।সবাই নির্বিঘ্নে প্রচার প্রচারনা চালাচ্ছেন।
মেয়র পদে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ইকরামুল হক টিটু(দেয়াল ঘড়ি),জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম (ঘোড়া),জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সাদেকুল হক খান মিল্কী টজু( হাতি),কৃষক লীগের সাবেক সদস্য কৃষিবিদ ড, রেজাউল হক(হরিন) ও জাপার প্রার্থী শহীদুল ইসলাম স্বপন মন্ডল( লাঙ্গল) প্রতীকে নির্বাচনে লড়ছেন।
বিএনপি নির্বাচন বর্জন করায় মাঠে শুধুই আওয়ামী লীগ। জাপার প্রার্থী স্বপন মন্ডল নামেই পরিচিত। লাঙ্গল প্রতীকে সংসদ নির্বাচনে সাড়ে ৬ লাখ ভোটারের মধ্যে মাত্র ৬ হাজার ভোট পেয়েছিলেন তিনি। সুতরাং স্বপন মন্ডল কত ভোট পাবেন তা সহজেই অনুমেয়।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র ইকরামুল হক টিটু দীর্ঘদিন যাবৎ মসিকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এক সময় ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন।এরপরই তিনি পৌরসভার প্যানেল মেয়র নির্বাচিত হন। তারপর পৌরসভার চেয়ারম্যান ও সিটি করপোরেশন হলে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হন।
প্রথম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় মেয়র নির্বাচিত হন ইকরামুল হক টিটু। আগামী ৯ ই মার্চ দ্বিতীয় বারের মত সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনেও তিনি সহ আওয়ামী ঘরানার ৪ জন প্রার্থী মাঠে।
সংসদের মত এটাও নিজেদের মধ্যে নির্বাচন। মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সাদেকুল হক খান মিল্কী টজু। দুজনেই দীর্ঘদিন যাবৎ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও নগরের ভোটারদের সাথে খুব একটা পরিচিতি নয়।কারন কাউন্সিলর থেকে মেয়র পর্যন্ত ইকরামুল হক টিটু দীর্ঘ ১৫/১৬ বছর যাবৎ জনতার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকায় তার গ্রহনযোগ্যতাও বেশি।
কোন এক মেয়র প্রার্থীর ঘোরতর সমর্থক বলেন,মেয়র ইকরামুল হক টিটু গত ১৫ বছরে নগরে যে শিকড় গেড়েছেন, তা দিনে দিনে অনেক ভিতরে চলে গেছে। এ শিকড় উপরিয়ে কেউ রাতারাতি সিটি মেয়র হয়ে যাবেন,সে আশা নেই।জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সাদেকুল হক খান মিল্কী টজু মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাঠ চষে বেড়ালেও তেমন সাড়া নেই। টিটুও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। অমায়িক ব্যবহার,তরুন ও মহিলা ভোটারদের মাঝে গ্রহনযোগ্যতা বেশি থাকায় টিটু প্রচার প্রচারনায় ইকরামুল হক টিটু এগিয়ে।
বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে টিটুর বিজয় একপ্রকার নিশ্চিত।
অপরদিকে ৩৩ টি পুরোনো কাউন্সিল র ও সংরক্ষিত কাউন্সিলরদের অনেকেই এবার আর ফিরে আসতে পারবেন বলে হচ্ছেনা। অনেক নতুন মুখ দেখা যাবে কাউন্সিলর পদে।
৯১.৩১৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৯০ জন। এখানে পুরুষের চেয়ে মহিলা ভোটার বেশি।