ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত ও স্বস্তিদায়ক করতে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সদস্যরা একযোগে দায়িত্ব পালন করছেন।
ঈদে নারীর টানে নানা শ্রেণীপেশার মানুষ শত কষ্ট উপেক্ষা করে কর্মস্থল ছেড়ে নিজ বাড়িতে পিতা মাতা ভাই বোন ও আত্বীয় স্বজনের কাছে ছুটে চলছে। এ সব যাত্রীদের নিজ গন্তব্যে পৌছা নিরাপদ, নিশ্চিত ও শান্তিময় করতে রাস্তায় রাস্তায় পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ ডিউটি দিচ্ছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের বুক বেয়ে কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুরের যানবাহন গুলো প্রায় প্রতি মিনিটে চলাচল করছে। এছাড়া ময়মনসিংহ থেকে সিলেট, চট্টগ্রাম সহ উত্তরবঙ্গের অসংখ্য যানবাহন চলাচল করছে। বিভাগীয় নগরী ময়মনসিংহ থেকে চলাচলকারী এ সব যানবাহনে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তায় ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভুঞা কোতোয়ালি মডেল থানা ও ডিবি পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশকে মাঠে নামিয়েছেন। কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মাইন উদ্দিন, পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত আনোয়ার হোসেন, ট্রাফিক বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক (প্রশাসন) সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে দিবারাত্রি টানা যানজট নিরসনে কাজ করছেন। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারগণ পাল্লা দিয়ে দিনরাত রাস্তায় যানজট নিরসন এবং কোন কারণে এক মিনিট সময়ও যাতে একটি গাড়ি রাস্তায় জটলা সৃষ্টি করতে না পারে তা তদারকি করছেন।

অপরদিকে ঈদের ছুটিতে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে জনসমাগম বাড়ে। সবগুলো বিষয় বিবেচনায় রেখে জেলা পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জেলা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, নৌ পুলিশ, এপিবিএনসহ পুলিশের সব ইউনিট নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করছেন বলে পুলিশ সুপার বলেন।
যাত্রীদের অনুরোধ জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো যানবাহনে যাত্রী হবেন না। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আপনারা গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন, দুর্ঘটনার শিকার হয়ে যেন আপন-জনদের নিকট যেতে না হয়। ফাঁকা ফ্লাট বা বাসা-বাড়িতে কেউ যেন কোনো ধরনের অপরাধ সংঘটন করতে না পারেন সেজন্য দারোয়ানদের যথাযথভাবে নিয়োজিত করতে বাড়ি ও ফ্লাট মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
যাতে কোন ধরণের অপরাধ সংঘটিত হলেও অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা যায়।
পুলিশ সুপার বলেন, ঈদে কেনাকাটাকে কেন্দ্রে করে একটি চক্র জাল টাকা ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার থাকতে হবে। শহরবাসী মনে করেন, জেলা পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে অন্যান্য ঈদের তুলনায় এবার অপরাধ অনেকাংশে কম সংগঠিত হয়েছে। এছাড়া ঢাকা-ময়মনসিিংহ হাইওয়ে রোডে ভালুকা, ত্রিশাল এবং ময়মনসিংহ নগরীর ভিতরে যামজট অনেক কম। এছাড়া ঈদ মার্কেটে নগরীর গাঙ্গিনার পাড়, স্টেশন রোড, ময়মনসিংহ রেল জংশন, স্বদেশী বাজারের মত ব্যস্ত এলাকায়ও চোর ছিনতাইকারী পকেটমারের উপদ্রব নেই বললেই চলে।