
প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, প্রত্যেক নাগরিকেরই দেশে আইনের আশ্রয় লাভ ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তির অধিকার আছে। মানুষের সেই অধিকার নিশ্চিত করতে জেলা জজগণ সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন তিনি।
শনিবার (১ জুন) সকালে ময়মনসিংহ জেলা জজ আদালতে আগত বিচারপ্রার্থীদের জন্য নির্মিত বিশ্রামাগার ‘ন্যায়কুঞ্জ’ উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, রেজিস্টার মশিউর রহমান, জেলা ও দায়রা জজ মমতাজ পারভীন, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মুহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী, পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞাসহ বিচারক ও আইনজীবীগণ উপস্থিত ছিলেন।
পরে নগরীর টাউন হল অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে জেলা আইনজীবী সমিতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন তিনি। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফজলুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালামের।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, বঙ্গবন্ধু অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করতেন। এই অসাম্প্রদায়িক চেতনা আমরা সবাই ধারণ করি। আসুন বাংলাদেশকে আমরা একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করি।
তিনি বলেন, সামরিক শাসন একটি অসাংবিধানিক শাসন ব্যবস্থা। স্বাধীনতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিষয়টি আমাদের মাথায় থাকতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে পারবে।
আইনজীবীদের উদ্দ্যেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, একজন আইনজীবীর ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার লড়াই শুধু আাদলতে সীমাবদ্ধ রাখলেই চলবে না। বরং একজন সুনাগরিক হিসেবে সমাজের প্রতিটি মানুষের জন্য ন্যায়বিচার ভিত্তিক জীবনমান উপহার দেয়া একজন আইনজীবীর দায়িত্ব। বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হবে এই ভেবে যে, আমরা সৎ থাকতে পারছি কীনা। আমার প্রত্যশা থাকবে, আপনারা প্রতিনিয়ত নিজেকে আত্মজিজ্ঞাসার সম্মুখিন করবেন।
তিনি বলেন, ‘আমি দায়িত্বভার গ্রহণের আমি বিচার বিভাগের ডিজিটালাইজেশন, বিচার সেবাপ্রাপ্তি সহজীকরণ তথা বিচার বিভাগের আধুনিকায়নের লক্ষ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। যারা আইনের গবেষণা করতে চান, তাদের জন্য সুপ্রীমকোর্ট থেকে একটি রিচার্স এন্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট খুলেছি। সেখাকে আইনজীবী ও বিচারকগণ গবেষনার সুযোগ পাবেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, রেজিস্টার মশিউর রহমান, সিনিয়র অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা, অ্যাডভোকেট এ এইচ এম খালেকুজ্জামান, অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট কবির উদ্দিন ভূইয়া, অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন খান, সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক, অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনা ও শেরপুর জেলা ও দায়রা জজ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণসহ বিচারক ও সিনিয়র আইনজীবীগণ উপস্থিত ছিলেন।