গত ১৯ ফেব্রুয়ারী মাওলানা আব্দুস সালাম ও মাওলামা এনামুল হক আইয়ুবি উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পাগরী প্রদান করেন। আত তাবীব মাদ্রাসা ও এতিমখানার পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, ২০১৫ সালে ছয় এতিম শিশু নিয়ে মাদ্রাসা ও এতিমখানা নিজ উদ্যোগে কার্যক্রম শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থী বাড়তে থাকে।এ পর্যন্ত ১০ জন এতিম শিশু তার মাদ্রাসা থেকে পাগরী প্রদান করা হয়েছে।
মিজানুর রহমান জানান, এই মাদ্রাসায় বর্তমানে ৩২ এতিম শিশু পাঠদান করছেন। এই পাঠদান কার্যক্রমে তিনজন শিক্ষক এবং তাদের জন্য আরো তিনজন কর্মচারী রয়েছেন। যারা এই অবুঝ শিশুদের রান্নাবাড়া থেকে শুরু করে শিশুদের নানা বিষয়ে সহযোগিতা করে আসছেন।
প্রতি মাসে প্রতিষ্টান পরিচালনা ও এতিমখানার শিশুদের সবার খাওয়া-দাওয়ায় প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়। এ ছাড়া তিনজন শিক্ষক, রন্ধনশিল্পীর বেতন ও বিদ্যুতের বিল মিলিয়ে প্রায় ৫৫/৬০ হাজার টাকা বায় হয়। বিভিন্নজনের সাহায্যের পাশাপাশি নিজের চেষ্টায় এসব টাকা সংগ্রহ করে ব্যয় মিটাতে কষ্ট হয় দাবী করে তিনি বলেন, কষ্ট করতে পছন্দ করেন তিনি। রিকশার ওঠেন না। কারণ রিকশায় উঠলে ন্যূনতম ২০ টাকা ভাড়া লাগে। সেই ২০ টাকা এতিমখানায় ব্যয় করাতে চেষ্টা করেন তিনি। মূলত দানের ওপরই চলছে এতিমখানাটি, প্রতি মাসে বেশ কয়েক হাজার টাকা ঋণ করতে হয়। পার আরো দান পেলে ঋণ শোধ করেন। কিন্তু ঋণ আর শেষ হয় না। গরিব ও অসহায় শিশুরা এখানে থাকা-খাওয়ার সুযোগ পায় এটাই তার শান্তি।
তিনি আরো বলেন, ২০১৪ সালের ১৯ জুন তাঁর একমাত্র ছেলে রফিক উদ্দিন তাবীব (৫) পুকুরে ডুবে মারা যায়। এরপর ছেলের শোকে কাতর হয়ে পড়েন তিনি। ছেলে মাদরাসায় পড়ত। ছেলের শোক কাটাতে এবং ছেলের আত্মার শান্তির জন্য পথ খুজতে এবং ছেলেকে এতিম শিশুদের মাঝে খুঁজে পেতে কেওয়াটখালী ঈদগাহ মাঠের পাশে
এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলি।