
ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন অফিসের স্টেনো টাইপিস্ট সুলতানের ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এই ভিডিও ফাঁসের পর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, এই ঘুষ বাণিজ্যের নেপথ্যে রয়েছে সাবেক সিভিল সার্জন ও স্বাচিপ নেতা সাইফুল ইসলাম এবং আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেনের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নাইটগার্ড থেকে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে অবৈধভাবে পদোন্নতি পাওয়া জাকির হোসেন এবং সাবেক সিভিল সার্জন সাইফুল ইসলাম এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা। তাদের প্রত্যক্ষ মদদ ও যোগসাজশে স্টেনো টাইপিস্ট সুলতান ময়মনসিংহ ক্লিনিক পাড়ায় দীর্ঘ দিন ধরে বেপরোয়াভাবে ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে আসছিলেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই সিন্ডিকেটটি মূলত বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মেহেদী হাসানের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বর্তমান কর্মকর্তাদের প্রশ্নবিদ্ধ করা।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, সাইফুল-জাকির সিন্ডিকেট ময়মনসিংহে তাদের হারানো আধিপত্য পুনরায় ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা তথাকথিত সাংবাদিক খাইরুল আলম রফিক ও তার সংঘবদ্ধ চক্রকে ব্যবহার করে বর্তমান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানাযায়, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর লাইসেন্স নবায়ন ও বিভিন্ন অজুহাতে সুলতান সরাসরি টাকা লেনদেন করতেন।
এছাড়াও সিন্ডিকেটের সদস্যদের পূনর্বহাল ও বর্তমান কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রচার করানো হতো প্রতিদিনের কাগজের কথিত ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নামধারী ফ্যাসিস্ট রফিক ও তার সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে।
তাদের উদ্দেশ্য ছিল, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে অফিসের প্রশাসনিক কাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা।
একজন সরকারি অফিসের পিয়ন বা টাইপিস্ট কীভাবে দীর্ঘ দিন ধরে এমন সিন্ডিকেট চালিয়ে যেতে পারে, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ভুক্তভোগীরা এই চক্রের বিচার এবং জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পক্ষ থেকে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।