1. admin@mymensingherkhobor.com : admin :
  2. amin@mymensingherkhobor.com : Amin :
  3. info@mymensingherkhobor.com : Aziz :
  4. editor@mymensingherkhobor.com : Editor :
  5. info.popularhostbd@gmail.com : PopularHostBD :
ময়মনসিংহে সদর এলজিইডির উন্নয়ন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ - দৈনিক ময়মনসিংহের খবর
বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

ময়মনসিংহে সদর এলজিইডির উন্নয়ন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ

,বিশেষ প্রতিবেদন |
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৭ বার পড়া হয়েছে

 ময়মনসিংহঃ জনগণের করের টাকায় যেখানে টেকসই উন্নয়ন হওয়ার কথা,সেখানে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ঘিরে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য—উন্নয়নের নামে এখানে চলছে কমিশন, সিন্ডিকেট ও নিম্নমানের কাজের রমরমা বাণিজ্য। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুনের নাম।

সিন্ডিকেটের অভিযোগ: উন্নয়ন প্রকল্প ‘নিজস্ব’ ঠিকাদারদের হাতে! স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ,২০২১ সালের ডিসেম্বরে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বেশিরভাগ উন্নয়ন প্রকল্প নির্দিষ্ট একটি ঠিকাদার গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। কাজ পেতে হলে উচ্চ কমিশনের শর্ত মানতে হয়—এমন অভিযোগ রয়েছে। কমিশনের চাপ সামলাতে গিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে নেমে আসে ভয়াবহ নিম্নমান। মাঠের চিত্র: কাগজে একরকম,বাস্তবে আরেকরকম! সিরতা,পরানগঞ্জ ও চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়নের একাধিক প্রকল্পে নিম্নমানের সামগ্রীর ব্যবহারের অভিযোগ স্থানীয়দের চোখে ধরা পড়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী—রডের পরিবর্তে বাঁশ, মানসম্মত সিমেন্টের বদলে অকার্যকর উপকরণ, পুরনো ভাঙা সুরকি দিয়ে কংক্রিট ঢালাই করা হয়েছে। ফলে নির্মাণ শেষ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সড়ক ভেঙে পড়ছে,খুলে যাচ্ছে উন্নয়নের মুখোশ।

এক প্রবীণ নাগরিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তা বানানোর নামে যারা খায়—আমরা কি সেই ভাঙা রাস্তা দিয়েই আমাদের অধিকার কবরস্থানে পৌঁছে দেব?” সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগঃ স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ঘিরে আসা কোটি কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দ অতিরিক্ত বিল ও ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে তুলে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প নথিতে দেখানো কাজের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কাজের বিস্তর অমিল রয়েছে। এই অনিয়মের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে প্রকৌশলী মামুন ও তাঁর ঘনিষ্ঠ একটি সিন্ডিকেট জড়িত—এমন অভিযোগ বারবার উঠে আসছে। সংবাদ প্রকাশের পরও ‘অদৃশ্য দেয়াল’! সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক গণমাধ্যমে এসব অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অভিযোগ রয়েছে—সংবাদ প্রকাশের পর তাঁকে বদলির আদেশ দেওয়া হলেও রহস্যজনকভাবে সেই আদেশ বাতিল হয় এবং তিনি আবার আগের পদেই বহাল থাকেন। স্থানীয়দের প্রশ্ন—এতসব অভিযোগের পরও কীভাবে একজন কর্মকর্তা অক্ষত থাকেন? কার আশ্রয়ে? প্রকৌশলীর বক্তব্যঃ এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। তদন্ত হলে আমি নির্দোষ প্রমাণ করতে পারব।” প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন! সব অভিযোগ ও দৃশ্যমান অনিয়মের পরও প্রশাসনিকভাবে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এটি কি প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নাকি দুর্নীতিবাজদের প্রতি গোপন আশ্রয়-প্রশ্রয়? সচেতন মহলের মন্তব্য—“আইনের শাসন দুর্বল হলে দুর্নীতিবাজরাই রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে।” দুদকের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবিঃ বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন,কেবল বদলি নয়—প্রয়োজন গভীর তদন্ত,প্রশাসনিক ও ফৌজদারি ব্যবস্থা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ ছাড়া সদর উপজেলায় উন্নয়ন কাগজের বাইরে বাস্তবে টেকসই হবে না। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় নির্মিত উন্নয়ন প্রকল্প যদি দুর্নীতির পকেটে যায়,তবে তা রাষ্ট্রের ভিত্তিকেই নড়বড়ে করে। তাই এখনই দৃশ্যমান পদক্ষেপ,সিন্ডিকেট ভাঙা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। প্রশাসন জাগুক—আইন ও ন্যায়বিচারের কাছে যেন কোনো ‘অপরাজেয় সম্রাট’ও দায়মুক্ত না থাকে।

সংবাদ টি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved
Design BY POPULAR HOST BD