
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় গৃহবধুর রহস্য জনক মৃত্যুর ঘটনায়, দায়ের করা মামলায় স্বামী ও শাশুড়ি গ্রেফতার। গৃহবধূ মাকসুদা আক্তার শ্বশুর বাড়িতে মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের পিতার দায়ের করা মামলায় স্বামী নাঈম(২২) ও শাশুড়ি শিরিনা(৫০)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। (২৫ ফেব্রুয়ারী) মঙ্গলবার রাতে গৃহবধূর বাবা হযরত আলী বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় শ্বশুর, শাশুড়ী, বাসুর, স্বামী ৪জনকে আসামী করে মামলাটি দায়ের করা হয়। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্বামী এবং শাশুড়িকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় , ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে গৃহবধূ মাকসুদা খাতুন ও পাশ্ববর্তী গ্রামের নাঈমের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে সেই সম্পর্ক এক সময় বিয়েতে গড়ায়। কিছুদিন যেতে না যেতেই তার উপর বাড়তে থাকে নির্যাতনের মাত্রা।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বিয়ের পর থেকে স্বামী শাশুড়ি বাসুর ঝগড়া সৃষ্টি করে নানাভাবে মাকসুদাকে অপমান-অপদস্ত, মারধর করতো। মেয়ে তার বাবাকে একাধিকবার তার উপর নির্যাতনের কথা জানায়, স্বামীর বাড়িতে থাকা অসম্ভব ঘর সংসার করা সম্ভব হচ্ছেনা। বিষয়গুলো নিহত গৃহবধূর পিতা হযরত আলী মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে কয়েকবার তার শ্বশুড় শাশুরিকে বুঝিয়ে শুনিয়ে মেয়ে মাকসুদাকে রেখে তার শ্বশুর বাড়িতে রেখে আসেন।
ঘটনার দিন মঙ্গলবার দুপুরে মোবাইল মারফত জানতে পারেন তার মেয়ে অসুস্থ দ্রুত তাকে আসতে বলেন। নিহতের পিতা বাড়িতে মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে দেখেন মাকসুদা মারা গেছে। বাড়ান্দাই রেখে স্বামী ছাড়া অন্যরা পালিয়ে গেছেন।
মামলার বাদী হযরত আলী বলেন , ‘আমার মেয়ে নিষ্পাপ। বিভিন্ন সময় মেয়ের শাশুড়ি বাসুর কে দিয়ে ঝগড়া লাগিয়ে রাখতো। চরমভাবে অপমান করতো আমার মেয়েকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাদের পথের কাঁটা সরাতে আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। আমি ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’
ধোবাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ আল মামুন সরকার বলেন, মৃত্যুর অভিযোগে গৃহবধূর বাবা হযরত আলীন বাদি হয়ে চার জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করে আদালতের সোপর্দ করা হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে।