
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় রাস্তায় বাস দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে মো: বুলু মিয়া (৪৫) নামক এক বাস চালককে পিটিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলাম। এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে ইউএনও’র বিচার দাবি করেন।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে এই বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনা ঘটে।
এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের কারণে জনভোগান্তির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের ঘটনাস্থলে গিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি খতিয়ে দেখার আশ্বাসে অবরোধ থেকে সরে যায় শ্রমিকরা। এতে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে মুক্তাগাছা পৌরসভার সামনের সড়কে বাস দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে বাস চালককে মারধরের ঘটনা ঘটে।
সূত্র জানায়, রমজানে যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে থানার বিপরীতে পৌরসভার পাশে বাস দাঁড়াতে নিষেধ করেন পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলাম। এরই মাঝে ইসলাম পরিবহনের একটি বাস ওই স্থানে এসে দাঁড়ায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইউএনও আতিকুল ইসলাম বাসে উঠে ওই চালক মো: বুলু মিয়াকে বেধরক লাঠি পেটা করে। এ সময় চালক বুলু মিয়া তার বাম হাতে আঘাত প্রাপ্ত হয়। এ ঘটনার খবর স্থানীয় শ্রমিকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে তারা ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিচার দাবি করেন।
আহত বাস চালক বুলু মিয়া বলেন, ঢাকা যাওয়ার পথে স্থানীয় ভাবকির মোড় থেকে বাসটি চালিয়ে পৌরসভার পাশে আসা মাত্রই ইউএনও বাসে উঠে আমাকে লাঠি পেটা শুরু করে। এতে আমি মারাত্মক ভাবে আহত হই। পরে সহকর্মীরা আমাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। সরকারের বড় একজন কর্মকর্তা, এভাবে আমাকে মারবেন তা কখনও ভাবতে পারিনি। আমি এর সঠিক বিচার চাই।
এ ঘটনায় ভোগান্তির শিকার বাস যাত্রী পারভীন আক্তার বলেন, ইউএনও বাস চালককে মারধর করায় শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করায় আমরা ভোগান্তিতে পড়েছি। পরে খবর পেয়ে দুইঘন্টা পর পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে।
মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, বাস চালককে ইউএনও লাঠি পেটা করলে শ্রমিকরা প্রায় দুই ঘন্টা ময়মনসিংহ টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করলে যানজট সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে বসে সমাধানের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেয়। তবে চালককে মারধর ঠিক হয়নি। যদিও যানজট নিয়ন্ত্রণে সেখানে বাস না দাঁড়াতে নির্দেশনা ছিল।
এই বিষয়ে জানতে মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।