1. amin@mymensingherkhobor.com : Amin :
  2. info.popularhostbd@gmail.com : PopularHostBD :
ঈশ্বরগঞ্জে মামলায় ফাঁসানোর নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে  - দৈনিক ময়মনসিংহের খবর
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ময়মনসিংহে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বাবজু হত্যাকান্ডের বিচার ফাঁসীর দাবীতে মানববন্ধন ফুলপুরে নিখোঁজ যুবকের দেহাবশেষ উদ্ধার অপহরণ মামলায়  গ্রেফতার ৩ অর্থ গ্রহণের দৃশ্য ঘিরে ময়মনসিংহের বিআরটিএতে তদন্তের আবেদন, পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন মুক্তাগাছা থানার ওসি’র টাকা লেনদেন নিয়ে ফেসবুকে চলছে সাফাই গাওয়া! বিমানমন্ত্রী মিল্লাতের নির্দেশেক্রমে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন যুবদল নেতা নজরুল- বিএনপি সভাপতি মানিক ময়মনসিংহ অঞ্চলে তিন মাসে ৫ ট্রেন লাইনচ্যুত। জনদুর্ভোগ চরমে জনকল্যাণে জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের ত্যাগ স্বীকার করতে হবে: বিমানমন্ত্রী মহাসড়কে চোরাচালান ও অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়েছে শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানা ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন ময়মনসিংহে স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ঈশ্বরগঞ্জে মামলায় ফাঁসানোর নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে 

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১১ মার্চ, ২০২৫
  • ২৭৭ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে একটি হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামী হিসেবে তিন তরুণসহ চার জনকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে থানায় নিয়ে মারধর ও টাকা আদায় করে মুক্তি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। হত্যা মামলা প্রকৃত আসামীরা এখনও ধরা না পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে জিজ্ঞাসাবাদের নামে থানায় নিয়ে টাকা আদায়ের বিষয়টি সামনে এসেছে।

জানা যায়, গত বছরের ১ অক্টোবর ভোর রাতে জাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত নৈশ প্রহরী আরমানকে হত্যা করা হয়। নিহত মো. আরমান স্থানীয় বাসিন্দা মো. লোকমান হেকিমের ছেলে। ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর সে জাটিয়া উচ্চ বিদ‍্যালয়ে নৈশপ্রহরী হিসাবে যোগদান করে কর্মরত অবস্থায় নিহত হন। আরমান হত্যার বিষয়টি নিয়ে ঘটনার দিন রাতেই মা শামছুন নাহার ওরফে ঝরনা বাদি হয়ে ৬ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই দিনেই আরমান হত্যার প্রধান আসামী ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার মাসুদ রানা আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। মামলার আর কোনো আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে আরমান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় গত এক সপ্তাহ ধরে এলাকাবাসী ও জাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি করছে। এতে সমানে এসেছে সন্দেহভাজন আসামী হিসেবে চারজনকে থানায় নিয়ে মারধার ও পুলিশের টাকা আদায়ের ঘটনা। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য গত ৪ মার্চ স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে এলাকাবাসী একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগটি তদন্তের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এরশাদুল আহমেদ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আরমান হত্যায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি থানার ওসি ওবায়দুর রহমানের নির্দেশনায় এসআই নজরুল ইসলাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরিফ বিল্লাহ (৪৬), রিফাতুল ইসলাম (২৩), বাবুল মিয়া (২১) ও রোমান মিয়া (২০) নামের চারজনকে থানায় নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের নামে তাদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এক পর্যায়ে আটকদের পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। অন্যথায় আরমান হত্যা মামলায় তাদের ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। আটক তরুণ বাবুলের বাবা মোনায়েম হোসেন হত্যা মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নজরুল ইসলামের সাথে ৬০ হাজার টাকা রফা করে পরিশোধ করেন। পরে আটক চারজনকে পরদিন রাতে মুক্তি দেওয়া হয় বলে দাবি ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের।

ভুক্তভোগী তরুণ রিফাতুল ইসলাম বলেন, রাত ১২টার দিকে আমি আমার বাড়িতে ফোনে বন্ধুর সাথে কথা বলছিলাম। হঠাৎ আট থেকে নয়জন পুলিশ আমাকে ঘিরে ধরে বলে বাজারে যেতে হবে। ওখানে ওসি স্যার দাড়িয়ে আছে তোমার সাথে কথা বলবে। বাজারে আনার পর তারা পুলিশের গাড়িতে তুলে ফেলে। থানায়  নিয়ে গিয়েই আমাকে এবং আরেক রোমান মিয়াকে হাতকড়া পড়িয়ে একটি দেওয়ালের সাথে ঝুলিয়ে রাখে। ঘন্টা খানেক পর ওই অবস্থায়  জিজ্ঞাসাবাদ করে। আরমানকে কারা হত্যা করেছে সেটা জানতে চায়। আরমানকে হত্যার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। আমি ঢাকায় কাজ করি। একমাস পর বাড়িতে এসেছি। তবুও আমাকে আরমান হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।

বাবুল মিয়া বলেন, আমাকেও বাড়ি থেকে ধরে নেওয়া হয়। থানায় নিয়েই আমার চোখ বেঁধে লাঠি দিয়ে মারতে শুরু করে। আরমানকে কারা মেরেছে সেটা জানতে চায়। আমি কিছুই জানিনা বললে তারা আরো বেশি মারতে থাকে। পরের দিন এসআই নজরুলের সাথে আমার বাবার কথা হয়। ওই সময় বাবার কাছে ১৫লক্ষ টাকা চায়। বাবা আমার মারধর দেখে ও হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিতে পারে এমন ভয়ে কিছু টাকা দিতে রাজি হয়। পরে চার জনে ১৫হাজার করে মোট ৬০হাজার টাকা দিয়ে আমাদের মুক্ত করে।  মুক্তি দেওয়ার আগে সাদা কাগজে স্বাক্ষরসহ তাদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়নি কিংবা কোনপ্রকার নির্যাতন করা হয়নি মর্মে আমাদের কথা ভিডিও রের্কড করে রাখে।

বিষয়টি নিয়ে জাটিয়া বাজার কমিটির সভাপতি আবুল বেপারী বলেন, আরমান হত্যা মামলাটি ভিন্নখাতে নিতে এলাকার চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে এনেছে শুনেছি।

আরমান হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নজরুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদের পর  কোন প্রকার সন্দেহ না হওয়ায় চারজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল  আটকদের ব্যক্তিদের নির্যাতন করা হয়নি এবং তাদের কাছ থেকে কোন টাকাও নেওয়া হয়নি।

 

ঈশ্বরগঞ্জ থানার থানার ওসি মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, টাকার বিনিময়ে চারজনকে ছাড়া হয়েছে এর সত্যতা নেই।  ওকে জিজ্ঞাসাবাদ জন্য আনা হলেও কোন ধরনের সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। কোন টাকা পয়সা রাখা হয়নি। এলাকাবাসী আমাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেনি, মামলাটি যেন সুষ্ঠু তদন্ত হয় সেজন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছে।

সংবাদ টি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved
Design BY POPULAR HOST BD