
আসছে আগামী ১২(ফেব্রুয়ারী) জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এলাকায় দীর্ঘদিন সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় থাকা এই রাজনৈতিক দলটির সমর্থক সাধারণ ভোটারদের দাবি, এবার ভোটের মাঠে “নীরব বিপ্লব” ঘটানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এই আসনে জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলকে ১০দলীয় জোট প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি, জোট মনোনীত প্রার্থীতা ঘোষণার পুর্ব থেকে তিনি মাঠ পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা, জনসংযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান শক্ত করে তুলেছেন । আসনটিতে প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বরাবরই তীব্র। তবে এবারের নির্বাচনে ‘ভোটের কৌশল’ এবং ‘সংগঠনভিত্তিক ভোট ব্যাংক’ বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল দিনরাত মানুষের দুয়ারে-দুয়ারে ঘুরছেন। শক্ত করছেন তার অবস্থান। এতে আগামী ১২তারিখ তার পক্ষে নিরব ভোট বিপ্লব ঘটাতে এমনটাও সম্ভাবনা দেখছেন সদরের ভোটাররা। অনেকেই বলছেন বিএনপি-আওয়ামীলীগকেতো একাধিকবার ক্ষমতার চেয়ারে বসানো হয়েছে। তাদের কে দেখেছি একবার জামায়াতে ইসলামীকেও দেখা প্রয়োজন। তাই গ্রামগঞ্জের ভোটাররা এবার প্রকাশ্যে ভোটের কথা না বললেও ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতায় বসানোর সমর্থন দিবে এমনটাই মনে করছেন অনেকে।
ময়মনসিংহ সদর আসনের কয়েকজন সাধারণ ভোটার জানান, এলাকার সামাজিক, ধর্মীয় ও দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সংগঠনে জামায়াতপন্থী স্বেচ্ছাসেবক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও তরুণদের ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরেই দৃশ্যমান। অনেকের মতে, প্রকাশ্যে বড় ধরনের শোডাউন না করলেও নিচু স্বরে সংগঠনের বিস্তার ও ভোটার যোগাযোগ তাদের শক্তির জায়গা।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “এই এলাকায় জামায়াতের সাংগঠনিক ভিত্তি আগের থেকে বেশি মজবুত। মানুষ চুপচাপ কথা বলে, কিন্তু ভোট দেওয়ার সময় দেখা যাবে আসল শক্তি কে।”
অন্যদিকে তরুণ ভোটারদের একটি অংশ মনে করেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হতাশার মধ্যে বিকল্প ধারার নেতৃত্বের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে।
এ আসনে বর্তমানে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ,সিপিবিসহ অন্যান্য দলের মনোনীত প্রার্থীরাও তাদের দলীয় প্রতীক নিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
বিশেষ করে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এর (হাত পাখা) প্রার্থী অধ্যাপক ডাঃ নাসির উদ্দিন, সিপিবি মনোনীত প্রার্থী কমরেড এডভোকেট এমদাদুল হক মিল্লাত এলাকায় সুপরিচিত। তাই ভোটের লড়াই বহুমাত্রিক হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একজন সিনিয়র রাজনৈতিক বিশ্লেষক জানান, “ময়মনসিংহ-৪ (সদর) এলাকা ঐতিহাসিকভাবে ধর্মীয়-রাজনৈতিক ভাবধারার প্রতি সংবেদনশীল। জামায়াত মনোনীত সঠিক প্রার্থী মনোনীত করায় এবং সঠিক সংগঠন পরিচালনা করতে পারায়, ভোটের মাঠে তারা উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে।
জামায়াত আনুষ্ঠানিক বড় সমাবেশ বা প্রদর্শনী করার চেয়ে ঘরে ঘরে যোগাযোগ, মসজিদভিত্তিক আলাপ, সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সংলগ্ন মাধ্যমে সমর্থন বাড়ানোর কৌশল অনুসরণ করে নির্বাচনী মাঠে দাড়ি পাল্লার গনজোয়ার তৈরীতে সক্ষম হয়েছে। এজন্য অনেকেই এটিকে ‘নীরব রাজনৈতিক উপস্থিতি’ বলে উল্লেখ করছেন।
নির্বাচনে বিজয়ের মালা পড়তে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় সক্রিয় থেকে মানুষের দৃষ্টি কেড়েছেন।
জামায়াতের মহানগর শাখার এক নেতা বলেন, “জামায়াতের নীতি আদর্শ ও নেতাকর্মীদের সততার কারণে জামায়াত সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। অনেক নেতাকর্মী শহীদ ও আহত হলেও কারো প্রতি জুলুম করেনি। তাই জামায়াত প্রার্থীই জিতবে ইনশাআল্লাহ।”
অন্যদিকে নানা উন্নয়নমুখী প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল।