
ময়মনসিংহে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ছামিউল হককে ঘিরে আবারও তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বদলির মাত্র সাত দিনের মাথায় তাঁর পুনরায় ময়মনসিংহে পোস্টিং আদায়ের ঘটনায় প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ—এই পুনঃপোস্টিংয়ের পেছনে প্রায় ৩ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের তথ্য প্রকাশ পায়নি।
বদলি ও পুনঃপোস্টিং: প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রশ্নের মুখে! অভিযোগ রয়েছে,২০২১ সালে তাঁকে শেরপুরে বদলি করা হলেও পরবর্তীতে তদবির ও প্রভাব খাটিয়ে তিনি পুনরায় ময়মনসিংহে দায়িত্ব নেন। সর্বশেষ বদলির প্রজ্ঞাপন জারির পর মাত্র সাত দিনের মধ্যে তা বাতিল হয়ে নতুন আদেশে তাঁকে আবারও একই জেলায় দায়িত্ব দেওয়া হয়। সচেতন মহলের মতে,এমন দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত স্বচ্ছতার মানদণ্ডে ব্যাখ্যা দাবি করে।
টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ:
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেন,প্রকল্পের বিল পরিশোধে অস্বচ্ছতা এবং চেক ইস্যু প্রক্রিয়ায় অনিয়ম রয়েছে। তাঁদের দাবি,বিল ছাড়ে বিলম্ব বা চাপ সৃষ্টি করে ঘুষ আদায়ের সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়,সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয়,যেখানে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ঠিকাদাররা অগ্রাধিকারভিত্তিতে সুবিধা পান। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ হয়নি।
রাজনৈতিক প্রভাব ও সংগঠন সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন: অভিযোগে আরও উঠে এসেছে,তিনি একটি পেশাজীবী সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ পেয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী ঘরানার বিভিন্ন সংগঠন ও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও রয়েছে। ঈশ্বরগঞ্জে ১০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ: ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভায় ড্রেন নির্মাণসহ একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ১০ কোটি টাকার অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নাগরিকদের একাংশের দাবি, যথাযথ তদন্ত হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুতর অসঙ্গতির আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। যদিও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর নিরীক্ষা প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সম্পদ গঠন নিয়ে নতুন অভিযোগ: নতুন করে অভিযোগ উঠেছে, মেলান্দহ উপজেলার ছবিলাপুর গ্রামে নিজ ও আত্মীয়স্বজনের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির এলাকাতেও সম্পদ বৃদ্ধির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী,ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে কোনো অনুসন্ধান বা তদন্তের অগ্রগতির তথ্য জানা যায়নি। গণমাধ্যমে প্রকাশ,তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই! গত ৩১ জুলাই একাধিক জাতীয়, স্থানীয় ও অনলাইন গণমাধ্যমে এসব অভিযোগ প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা বা তদন্ত কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও ঠিকাদার সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বক্তব্য জানার চেষ্টা: অভিযোগের বিষয়ে প্রকৌশলী মোহাম্মদ ছামিউল হকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন ও সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দাবি ও প্রশ্ন: সচেতন মহলের বক্তব্য—অভিযোগ গুলো যদি ভিত্তিহীন হয়,তবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তা পরিষ্কার করা হোক। আর যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়,তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের মতে,সরকারের ভাবমূর্তি ও প্রশাসনিক জবাবদিহি রক্ষায় নিরপেক্ষ তদন্তই একমাত্র পথ। এদিকে,একাধিক অনিয়ম,ঘুষ বাণিজ্য ও জন-হয়রানির অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ সংযুক্ত করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে একটি পূর্ণাঙ্গ ডসিয়ার পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রশ্ন রয়ে গেছে—একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযোগ প্রকাশের পরও কেন কার্যকর তদন্ত দৃশ্যমান নয়? জনআস্থার স্বার্থে স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত এখন সময়ের দাবি।