
গত ১৮ ফেব্রুয়ারী সন্ধা ৭ টায় আনন্দ মোহন কলেজ এর রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন (২৬) এবং তার রুমমেট মন্জুরুল আহসান রিয়াদ (২৩) ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারে ঘুরতে যান। সেখানে কতিপয় কিশোর গ্যাং সদস্যদের কবলে পড়েন। এ সময় আত্ন রক্ষায় মন্জুরুল আহসান রিয়াদ ও নুরুল্লাহ শাওন নদীতে ঝাপিয়ে পড়েন। মন্জুরুল আহসান রিয়াদ পাড়ে উঠলেও নুরুল্লাহ শাওনের সন্ধান মিলেনি।এটি হত্যা নাকি দূর্ঘটনা এর উত্তরই খুজছে আইন শৃংখলা বাহিনী। ঘটনার বিশ্লেষন ভিন্ন ঘটনা হতে পারে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এমন ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ এবং স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস এর সদস্যবৃন্দ ও কোতোয়ালী থানার পুলিশ ব্রহ্মপুত্র নদ ও আশপাশ এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশ এ সময় এক কিশোরকে আটক করেন।
এ ঘটনায় ভিকটিমের মা নাহিদা আক্তার ওরফে সাহিদা বেগম ০৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামি করে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। তৎপ্রেক্ষিতে কোতোয়ালী মডেল থানা মামলা নং-৩৮, তারিখ-১৯/০২/২০২৬ খ্রি., ধারা-১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩৬৪/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০ মোতাবেক রুজু হয়।
পরবর্তীতে গত ২০ফেব্রুয়ারী তারিখ অনুমান ২১.৩০ ঘটিকায় ব্রহ্মপুত্র নদ হতে ভিকটিম নুরুল্লাহ শাওনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
উক্ত ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ সুপার, ময়মনসিংহে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আসামি গ্রেফতার এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনার উদ্ঘাটনের নির্দেশনা প্রদান করেন।
তৎপ্রেক্ষিতে ডিবি ও কোতোয়ালী মডেল থানার একাধিক চৌকস টিম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের গ্রেফতারের নিমিত্তে ময়মনসিংহজেলা সহ বিভিন্ন জেলায় অভিযান পরিচালনা করে।
এর ধারাবাহিকতায় ডিবি কর্তৃক ২১ফেব্রুয়ারী অনুমান ১৭.০০ ঘটিকায় নেত্রকোনা জেলার সদর থানাধীন সাতপাই এলাকা হতে দেবরাজ বিন (১৪)কে গ্রেফতার করা হয়।
একই তারিখে অনুমান ১৭.১৫ ঘটিকায় ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানাধীন ভারতী এলাকা হতে হৃদয় বিন (১৫) কে গ্রেফতার করা হয়।
পাশাপাশি কোতোয়ালী মডেল থানার একাধিক টিমের অভিযানে এজাহারনামীয় আরো তিনজন অভিযুক্ত রাজ বিন (১৩), বিশাল বিন (১৫) এবং বিপুল বিন (১৬) কোতোয়ালীর বিভিন্ন এলাকা হতে গ্রেফতার হয়।
এ পর্যন্ত এজাহারনামীয় সাতজনের মধ্যে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।গেফতারকৃত সকলের ঠিকানা চর জেলখানা (বিনপাড়া), থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ।
গ্রেফতারকৃত বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য বিভিন্ন সময় শহরের বিভিন্ন ছেলে মেয়েরা পড়ন্ত বিকেলে সাহেব কোয়াটা পার্ক সংলগ্ন নদী পাড় হয়ে ওপাড়ে যায়। নীরব স্থানে বসে তারা আড্ডা দেয়। এ সকল আড্ডা রাত ৭/৯ পর্যন্ত চলে। স্থানীয় বখাটে যুবকরা সামান্য অশ্লীলতা দেখলেই তাদের কাছ থেকে টাকা, মোবাইল ছিনিয়ে নেয়।