
কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার সিহাড়া গ্রামের মতি মিয়া (৬৫) কে জবাই করে হত্যার ঘটনায় ইব্রাহিম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গত ৩১ জানুয়ারি মিঠামইন উপজেলার সিহাড়াগ্রামের মতি মিয়াকে নির্মমভাবে জবাই করে হত্যা করা হয় । হত্যার ঘটনায় পুলিশের ভয়ে সিহাড়া গ্রামের অনেকেই গ্রাম ছাড়া হয়ে পড়ে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, আধিপত্য বিস্তার, সমাজপতিদের দলাদলিতে এই গ্রামে মারামারি ও খুন খারাপি লেগেই আছে। গত ৩১ জানুয়ারি ভোরে ঢাকী ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের চরের কান্দা নামক স্থান থেকে সিহাড়া গ্রামের মৃত তুতা মিয়ার ছেলে মতি মিয়ার জবাই করা লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত মতি মিয়ার স্ত্রী গুলবাহারের দাবী তাদের গ্রামের প্রতিবেশী প্রতিপক্ষরা জবাই করে হত্যা করেছে। ৩০ জানুয়ারির রাতে প্রতিবেশী ইসমাইল শরিফ গং আমাদের বাড়িতে এসে ইয়াকুব মিয়ার ভেকুর পাহারাদারের কাজ দেওয়ার কথা বলে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। মতি মিয়া সারারাত ঘরে ফিরে না আসায় তখন সকাল আনুমানিক পাঁচ টার দিকে যেখানে ভেকু রাখা হয়েছে সেখানে গিয়ে মৃত লাশ দেখতে পান। বাদীর দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিপক্ষ শাহ আলম সহ বেশকয়েকজন মতি মিয়াকে নির্মমভাবে জবাই করছেন এবং পাশের সেচের নালাতে পুতে রেখেছেন মতি মিয়ার লাশ। খবর পেয়ে মিঠামইন থানার পুলিশ এসে নিহত মতি মিয়ার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠান। মতি মিয়ার স্ত্রী গুলবাহার জানান ঘটনার পরদিন মতি মিয়ার লাশের দাফন কাজ সেরে স্ত্রী গুলবাহার বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ আমল গ্রহণকারী আদালতে ১৭জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। নিহত মতির স্ত্রী স্বামীর হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এই ঘটনার পর পুলিশের ভয়ে গ্রামের অর্ধেক পরিবার পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে । নারীরা ও অন্য গ্রামের আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে নিরাপদে চলে যাচ্ছেন। পুলিশ এ এই ঘটনার অভিযোগে ইব্রাহিম নামের এক ব্যক্তিকে গাজীপুর থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে গ্রেপ্তার করে মিঠামই থানায় নিয়ে আসে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।