
মহৎ ব্যক্তি কেবল একজন মানুষ নন; তিনি এক চলমান আদর্শ, নৈতিক আলোকবর্তিকা, মানবিক চেতনার প্রতীক।ময়মনসিংহের সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটু, তাই হয়তো শিখিয়েছেন নগরবাসীকে।
ইতিহাসে আমরা দেখেছি—যে মানুষ নিজ ধর্ম, বর্ণ, জাতি বা দেশের সীমা অতিক্রম করে সমগ্র মানবজাতিকে আপন করে নিয়েছেন, তারাই প্রকৃত মহৎ। তাদের কাছে মানুষই ছিল মুখ্য, পরিচয় ছিল গৌণ। তাই একজন সত্যিকারের মহৎ ব্যক্তি মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান বা বৌদ্ধ—যে ধর্মেরই হোন না কেন—তিনি সব মানুষের জন্য সমানভাবে শ্রদ্ধার, সমানভাবে গ্রহণযোগ্য।
আমি দেখেছি, ইকমুল হক টিটু পদবী নয়? মানুষ হিসেবেই তিনি, নগরবাসীর আবদার, নিমন্ত্রন বা মানব সেবায় এগিয়ে গিয়েছেন। করোনা কালিন সময়ে তিনি মাঠে থেকে পরামর্শ ও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে ছিলেন। তিনি তৎ সময়ে নগর পিতা হিসেবে ছিলেন রাজনীতির বহিরে। তার উদ্দেশ্য ছিলো মহৎ। মানব সেবা।
অহিংস মানবিক সংগ্রামের যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছিলেন, তা ময়মনসিংহবাসীর জন্য আজও মানবতার এক অনন্য উদাহরণ। তিনি শিখিয়েছেন,—মহত্ব কোনো পদবি নয়, কোনো রাষ্ট্রীয় সম্মান নয়; মহত্ব হলো আত্মত্যাগ, নৈতিক সাহস ও সর্বজনীন ভালোবাসার এক অবিরাম চর্চা।তাই হয়তো নগরবাসী তাকে আজও মনে করে। মনেও রেখেছে তার অবদান।
দেশের ইতিহাসেও আমরা এমন অনেক মহৎ মানুষের দেখা পেয়েছি, যাদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, ট্রাস্ট ও ফাউন্ডেশন। শিক্ষার আলো, চিকিৎসা সেবা, সামাজিক কল্যাণ—সব ক্ষেত্রেই তাদের অবদান ছিল মৌলিক। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ব্যক্তিনির্ভর মানবিক নেতৃত্বের উপস্থিতি যেন কমে এসেছে। প্রতিষ্ঠান আছে, কাঠামো আছে, নাম আছে—কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সেই আত্মা নেই, যে আত্মা প্রতিষ্ঠানের মূল প্রেরণা ছিল।এলাকার বা রাষ্ট্রের উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো দিয়ে হয় না; মানুষের নৈতিক শক্তি গড়ে ওঠে মানবিক নেতৃত্বের মাধ্যমে। যখন সমাজে এমন মহৎ মানুষের অভাব দেখা দেয়, তখন একটি নীরব শূন্যতা তৈরি হয়—যা কেবল অর্থ দিয়ে পূরণ করা যায় না, প্রয়োজন হয় দৃষ্টিভঙ্গি, আদর্শ ও ত্যাগের। নগরীর বহুৎ মানুষ হয়তো আজ তা উপলদ্ধি করছে?
আমরা রাষ্ট্রের পট পরিবর্তনে ময়মনসিংহ নগরবাসী একজন সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটুকে হারায়নি, হারিয়েছে একজন সেবক ও মানবিক মানুষকে।