1. amin@mymensingherkhobor.com : Amin :
  2. info.popularhostbd@gmail.com : PopularHostBD :
ময়মনসিংহ জেলার সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ- দৈনিক ময়মনসিংহের খবর
শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন

ময়মনসিংহ জেলার সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ-

স্টাফ রিপোটার ::
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১ মে, ২০২৩
  • ১২০৩ বার পড়া হয়েছে

অন লাইনে উইকিপিডিয়া সহ কিছু লেখা পাঠ করে জানা যায়, মোগল আমলে মোমেনশাহ নামে একজন সাধক ছিলেন, তার নামেই মধ্যযুগে অঞ্চলটির নাম হয় মোমেনশাহী। মোগল শাসন শুরু হয়েছিলো ১৫৫৬ সনে।

ষোড়শ শতাব্দীতে (১৬০০ সনের পরে) বাংলার স্বাধীন সুলতান সৈয়দ আলাউদ্দিন হোসেন শাহ তাঁর পুত্র সৈয়দ নাসির উদ্দিন নসরত শাহ’র জন্য এ অঞ্চলে একটি নতুন রাজ্য গঠন করেছিলেন, তখন এর নাম দেয়া হয় নসরতশাহী বা নাসিরাবাদ। (ষোড়শ শতাব্দীতে সৈয়দ আলাউদ্দিন শাহ কে স্বাধীন নবাব বলা হয়েছে কিন্তু মোগলরা ভারত সম্রাজ্য শাসন করেছে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত। তাই তাঁকে স্বাধীন নবাব বলা যায় না।

ময়মনসিংহের নামকরণঃ-
অন লাইনের লেখা থেকে জানা যায়, নাসিরাবাদ নাম পরিবর্তন হয়ে ময়মনসিংহ হয় একটি ভুলের কারণে। বিশ টিন কেরোসিন বুক করা হয়েছিল বর্জংলাল অ্যান্ড কোম্পানির পক্ষ থেকে নাসিরাবাদ রেল স্টেশনে। এই মাল চলে যায় রাজপুতনার নাসিরাবাদ রেল স্টেশনে। এ নিয়ে অনেক দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে আরো কিছু বিভ্রান্তির কারণে রেলওয়ে স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে ময়মনসিংহ রাখা হয়। (এই ঘটনার কোন সন তারিখ উল্লেখ নেই, কিন্তু ঢাকা ময়মনসিংহ রেল লাইন স্থাপিত হয়েছে ১৮৮৬ সনে, সুতরাং প্রশ্ন থেকেই গেল।) নাসিরাবাদ থেকে ময়মনসিংহ কেন হলো তার কোন ব্যাখ্যা কোথাও নেই। তবে বিভিন্ন বই-পুস্তক, স্কুল কলেজের শিক্ষক ও ইতিহাস নিয়ে যারা গবেষণা করেন তাদের নিকট থেকে দুটি ঘটনা জানা যায় ।

১। পূর্ব নাম মোমেনশাহী হবার কারণে ভিন্ন ভাষার শাসকদের বিকৃত উচ্চারণে এর নাম ময়মনসিংহ হয়েছে ।

২। মোগল সেনাপতি মনমোহন সিংহ ঈসা খাঁকে দমন করতে যাওয়ার পথে এই অঞ্চলে বেশ কিছুদিন অবস্থান করেছিলেন। মনমোহন সিংয়ের বিকৃত উচ্চারণে এখানকার নাম হয়ে যায় ময়মনসিংহ। মুসলিমরা প্রথম ঘটনাকে প্রাধান্য দেয় হিন্দুরা দ্বিতীয় ঘটনাকে। এখানে সাম্প্রদায়িকতার গন্ধ আছে। তবে ময়মনসিংহ অতি পুরানো, বিশেষায়িত ও প্রসিদ্ধ একটি জেলা।

ময়মনসিংহ জেলার প্রতিষ্ঠাঃ-
১৭৮৭ সালের মে মাসের এক তারিখে ময়মনসিংহ জেলা প্রতিষ্ঠা করে ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি। উদ্দেশ্য, রাজস্ব আদায়, প্রশাসনিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক ও স্থানীয় বিদ্রোহ দমন।

ময়মনসিংহ জেলা শহরের গোড়াপত্তনঃ-
শুরুতে ময়মনসিংহ জেলার কাজ শুরু হয় বর্তমান শহর থেকে ৬/৭ মাইল দুরে বেগুনবাড়ি নামক জায়গায়। এখানে তখন ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর কুঠি ছিলো। (এখন বেগুনবাড়ি একটি রেলস্টেশন)।

১৭৯১ সালে সেহড়া মৌজায় জেলা স্থানান্তরিত হয়। শহর প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮১১ সনে। শহরের জন্য জমি দান করেন, মুক্তাগাছার জমিদার রঘুনন্দন আচার্য।

ময়মনসিংহ পৌরসভাঃ-
১৮৬৯ সালের ৮ এপ্রিল, নাসিরাবাদ, কৃষ্ণপুর, সেহড়া, চরপাড়া এবং কাশর গ্রাম নিয়ে পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করা হয়। ময়মনসিংহ পৌরসভা জেলার দ্বিতীয় পৌরসভা, প্রথম পৌরসভা শেরপুর, ১৮৬৯ সনের ১ এপ্রিল।

পৌরসভার দ্বারা ১৮৮৪ সালে ময়মনসিংহের রাস্তায় প্রথম কেরোসিনের বাতি জ্বালানো হয়। ১৮৮৭ সালে জেলা বোর্ড গঠন করা হয়।

ময়মনসিংহ ছিলো ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় জেলা। ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন স্থান সিলেট, ঢাকা, রংপুর ও পাবনা জেলায় সংযুক্ত হয়েছে। ১৯৬৯ সনে ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্গত টাঙ্গাইল মহকুমা, ১৯৭৮ সনে জামালপুর মহকুমা এবং ১৯৮৪ সনে কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও শেরপুর মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করা হলে এর আয়তন কিছুটা ছোট হয়ে যায়। আয়তনে ছোট হলেও ময়মনসিংহ জেলায় আছে ১৩ টি উপজেলা ১৪ টি থানা, ১১ টি সংসদীয় আসন, একটি সিটি কর্পোরেশন, ১০টি পৌরসভা, ১৪৭টি ইউনিয়ন, ২১০১টি মৌজা, ২৭০৯টি গ্রাম ।

ময়মনসিংহ জেলার সীমানাঃ-
ময়মনসিংহ জেলার উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্য, দক্ষিণে গাজীপুর জেলা, পূর্বে নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জ জেলা এবং পশ্চিমে শেরপুর, জামালপুর ও টাঙ্গাইল জেলা অবস্থিত।
ময়মনসিংহ জেলার নদনদীঃ- ময়মনসিংহ জেলায় অনেক গুলো নদনদী আছে। তার তালিকা নিম্নরূপ।

নদ:- ব্রহ্মপুত্র, বানার, বাইলান, কাওরাইদ, কংশ, বাথাইল, দেয়ার, দেওর, বাজান, আয়মন ।

নদী:- কাঁচামাটিয়া, মঘা, সোয়াইন, দইনা, পাগারিয়া, সুতিয়া, সুরিয়া, মগড়া, নরসুন্দা, নিতাই, খাড়িয়া, ভোগাই, বান্দসা মালিজি, ধলাই, কাকুড়িয়া, নাগেশ্বরী, আখিলা, মিয়াবুয়া, কাতামদারী, সিরখালি, খিরু, বাজুয়া, লালতি, চোরখাই, বাড়েরা, হিংরাজানি, দেওরা, থাডোকুড়া, মেদুয়ারি, জলগভা, মাহারী।

শিক্ষাঃ- ময়মনসিংহ শিক্ষা নগরী হিসাবে পরিচিত। এখানে আছে কৃষি শিক্ষার প্রথম ও সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, আনন্দ মোহন সরকারী কলেজ, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, মুমিনুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজ, নাসিরাবাদ কলেজ, আলমগীর মনসুর (মিন্টু) মেমোরিয়াল কলেজ, ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়, সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ক্যান্টনম্যান্ট কলেজ, নটরডেম কলেজ, ময়মনসিংহ মহিলা কলেজ, মহাখালী মহিলা কলেজ, ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ (পুরুষ ও মহিলা), জেলা স্কুল, বিদ্যাময়ী স্কুল, মৃত্যুঞ্জয় স্কুল, নাসিরাবাদ কলেজিয়েট স্কুল, মুসলিম গার্লস স্কুল সহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আমি শুধু শহরের বিখ্যাত নামগুলো লিখলাম। ময়মনসিংহের প্রতিটি উপজেলা ও থানায় অসংখ্য ভালো ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে।

ময়মনসিংহ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি জেলা। ধান এখানকার প্রধান শষ্য। এখানে একসময়ে প্রচুর পাট উৎপন্ন হতো, এখনো হয়। এখানে গমের উৎপাদনও ভালো। ময়মনসিংহ জেলায় সমতল, চরাঞ্চল ও পাহাড়ি পরিবেশ থাকায় এখানে সবধরনের শষ্য, ও শাকসব্জী উৎপন্ন করা হয়। নদনদী, হাওর, বাওরে বিখ্যাত ময়মনসিংহ মাছের জন্য সুবিখ্যাত। ময়মনসিংহ অঞ্চলের মাছ সমগ্র দেশ সহ বিদেশেও জনপ্রিয়। নদনদী সমূহ খরশ্রোতা হওয়ায় মাছ খুব সুস্বাদু। এখানে চাষের মাছও রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদিত হয়।

হাওর, বাওর মইসের সিং এই তিনে ময়মনসিং এই একাকার পরিচিত বহন করে।

ময়মসিংহের ভালুকা উপজেলা এখন শিল্পসমৃদ্ধ এলাকা। এখানকার শিল্প প্রতিষ্ঠানের কারণে রাজস্ব আদায়ে ময়মসিংহ জেলার ভুমিকা উজ্জ্বল।

হালুয়াঘাট উপজেলায় দুইটি স্থলবন্দর থাকায় এখান থেকেও সরকার ভালো রাজস্ব পেয়ে থাকে। এই সীমান্ত দিয়ে আমদানি করা কয়লা পাথর দেশের অবকাঠামোগত নির্মানে ভুমিকা রাখে। এদিকে সরকার আরও নজর দিলে ময়মনসিংহ বাসী অধিক লাভবান হতে পারে।

ময়মনসিংহ জেলায় একসময় বহু জমিদার বসবাস করতো। ময়মনসিংহের মানুষ সবসময় স্বাধীনচেতা।

ময়মনসিংহের সাথে ভারতের সীমান্ত যোগাযোগ ভালো থাকায় মুক্তিযুদ্ধের সময় ময়মনসিংহের ভুমিকা গৌরবোজ্জ্বল। প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ময়মনসিংহ শহরে বসবাস করতেন। ময়মসিংহের বীর মুক্তিযোদ্ধা গন প্রায় প্রতিটি যুদ্ধেই জয়লাভ করেছে কোন যুদ্ধে প্রথমবার বিজয়ী হতে না পারলেও পরবর্তী যুদ্ধে পাকিস্তানী বাহিনীকে পরাজিত করতো।

ঢাকা বিজয়ে মুক্তিবাহিনী ও মিত্র বাহিনী ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় যাওয়ার রাস্তাকে প্রাধান্য দিতো। ময়মনসিংহের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিলো খাগডহরে অবস্থিত ইপিআর ক্যাম্পে। যুদ্ধ শুরুর দ্বিতীয় দিনেই বাঙালি ইপিআর ও সাধারণ জনতা মিলিত হয়ে পাকিস্তানি বাহিনিকে পরাজিত করে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র দখল করেছিল।

শহরের যানজট ময়মনসিংহ বাসীর প্রধান দুর্ভোগ। প্রশাসন যানজট সমস্যা সমাধানে শতভাগ অসফল। ময়মনসিংহ থেকে বিমান ব্যাতীত দেশের সর্বত্র ভালো যোগাযোগের ব্যবস্থা রয়েছে। যানবাহন মালিক ও শ্রমিক সমিতির নামে চাঁদাবাজ লাঠিয়াল দের দৌরাত্মও ময়মনসিংহ বাসীদের বিব্রত করে ।

কালের পরিক্রমায় ময়মনসিংহ এখন বিভাগীয় শহর। ফেসবুকে একটি দু’টি লেখা দিয়ে ময়মনসিংহের ইতিহাস লেখা সম্ভব না। আজ ময়মনসিংহ জেলার ২৩৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আমার পক্ষ থেকে সুপ্রিয় পাঠকের নিমিত্তে ক্ষুদ্র উপস্থাপন। ভুলত্রুটি নিজগুণে ক্ষমা করে সংশোধন করার সুযোগ দিলে কৃতার্থ হবো।

সকলকে ময়মনসিংহ জেলার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর শুভেচ্ছা।

>>>>>>>>তথ্য সংগ্রহীত<<<<<<<

সংবাদ টি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved
Design BY POPULAR HOST BD