নেত্রকোনা শহরে কাটলী এলাকায় বাসায় ঢুকে মনোয়ারা বেগম (৫৫) নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করেছে এক যুবক। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তার স্বামী ও ছেলে। পরে স্থানীয় লোকজন হামলাকারীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। সোমবার (১ জুন) রাত ৯টার দিকে শহরের কাটলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মনোয়ারা বেগম ওই এলাকার আবু চান মিয়ার স্ত্রী।আহতরা হলেন তার স্বামী আবু চান মিয়া (৬০) এবং ছেলে মুন্না মিয়া (২৫)। আটক ব্যক্তি একই এলাকার আব্দুর রশিদ (২৮), যিনি পেশায় রিকশাচালক। নিহতের মেয়ে লিজা মণি জানান, রাতে বাসায় এসে তিনি দেখতে পান আব্দুর রশিদ তার বাবা ও ভাইকে কুপিয়ে আহত করেছেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে ঘরের খাটের নিচ থেকে তার মায়ের মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি জানান, রশিদ পরিবারের পরিচিত ছিলেন এবং বিভিন্ন সময় তাদের কাছ থেকে টাকা ধার নিতেন। নেত্রকোনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কুমার সরকার আজ মঙ্গলবার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। ওই সুযোগে আব্দুর রশিদ প্রথমে মনোয়ারা বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে ছেলে মুন্না মিয়া বাধা দিতে গেলে তাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী ও ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে আবু চান মিয়াকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকেই আব্দুর রশিদকে আটক করেন। আহত বাবা-ছেলেকে প্রথমে নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল-এ নেওয়া হয়। সেখানে মুন্না মিয়ার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে আটক আব্দুর রশিদকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কুমার সরকার জানান, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ। পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাজ করছেন।